নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে জাতীয় সড়ক মেরামতকে কেন্দ্র করে গাজোলে বিক্ষোভ

561

গাজোল: নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে জাতীয় সড়ক মেরামতকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গাজোলের কদু বাড়ি মোড় এলাকায়।ফারাক্কা রায়গঞ্জ হাইওয়ে অথরিটি লিমিটেডের কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন গাড়ির চালক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে গাজোল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দীর্ঘদিন ধরে বেহাল ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। তবুও সেভাবে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার রায়গঞ্জ ফারাক্কা হাইওয়ে অথরিটি। যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তা বেহাল হয়ে রয়েছে সেখানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।বিশেষ করে টোল গেট থেকে থেকে গাজোলে আসার রাস্তা এবং গাজোল থেকে মালদা যাওয়ার অ্যাপ্রোচ রোডের ভয়ঙ্কর অবস্থা। ওই রাস্তা দুটিতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা লেগে আছে। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের রাস্তাটিরও বেহাল অবস্থা। যা নিয়ে গাড়িচালকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি রাস্তার কিছু কিছু জায়গায় সংস্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। ইটের টুকরো এবং সিমেন্ট দিয়ে প্রাথমিকভাবে বড় গর্তগুলো ভরাট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমজনতার অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা সারাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। পিচের রাস্তায় ইট ও জমাটবাঁধা সিমেন্ট দিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ চালানো হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে এদিন জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এলাকাবাসীরা। সকলে দাবি জানাতে থাকে প্রথমে জাতীয় সড়ক ঠিক করুক তারপরেই টোল নিক টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় যারা সংস্কারের কাজে এসেছিল সে সমস্ত কর্মীদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসীরা। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে টোলপ্লাজার কর্মীরা। এরপরে টোলপ্লাজার কর্মীদের সঙ্গে প্রথমে শুরু হয় বাক-বিতণ্ডা। এরপর সাধারণ মানুষ ও টোল কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি। উত্তেজিত হয়ে উঠে এলাকা। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে গাজোল থানার পুলিশ। অবশেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ রায় জানান, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ অবস্থা। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। অ্যাপ্রোচ রোডে বড় বড় গর্ত। আদালতের নির্দেশ আছে টোল প্লাজার দুই দিকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা মসৃণ থাকতে হবে। না হলে টোল নেওয়া চলবে না। কিন্তু এখানে ২০০ কিলোমিটার তো দূরের কথা ২০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তা ঠিক নেই। তাহলে কিসের ভিত্তিতে টোল আদায় চলছে তা পরিষ্কার করে জানাতে হবে।

টোলপ্লাজার কর্মী তন্ময় কুমার দাস এবং রাস্তা দেখভাল করা বিভাগের কর্মী রাজদীপ ভৌমিক জানান, বৃষ্টির জন্য পিচের কাজ করা যাচ্ছে না। বিটুমিন প্লান্ট বন্ধ হয়ে রয়েছে। তার জন্য প্রাথমিকভাবে সিমেন্ট এবং ইঁট দিয়ে বড় গর্তগুলোকে বোজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্টোর রুম থেকে ভুলবশত এখানে খারাপ সিমেন্ট চলে এসেছে। আমরা সেই সিমেন্ট গুলো পাল্টে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

ফারাক্কা রায়গঞ্জ হাইওয়ে অথরিটি লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার মনোজ তিওয়ারি রাস্তা খারাপের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টির জন্য পুরোদমে রাস্তা ঠিক করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রাথমিকভাবে যে সমস্ত জায়গায় বড় বড় গর্ত রয়েছে সে সমস্ত জায়গায় ইঁট এবং সিমেন্ট দিয়ে রাস্তা চলাচল যোগ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কদুবাড়ি এলাকায় নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে কাজ করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আমরা জানাচ্ছি আর কয়েক দিনের মধ্যেই জোরকদমে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। আমরা পুজোর আগেই ঝাঁ-চকচকে রাস্তা উপহার দিতে পারব বলে আশা প্রকাশ করছি।