জাতীয় দলের ফুটবলার সংগীতা ইটভাটার শ্রমিক

96

রাঁচি : দোহায় অনুশীলনে ব্যস্ত সুনীল ছেত্রীরা। একই সময়ে ঝাড়খণ্ডের সংগীতা সোরেন স্থানীয় একটি ইটভাটায় কর্মরত। বছর কুড়ির এই ফুটবলার এখন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছেন। সংগীতা ধানবাদের বাধমারা ব্লকের বাঁশমুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে জাতীয় দলের হয়ে একাধিকবার বিদেশ সফরও করেছেন। ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সঙ্গে ভুটানে গিয়েছেন। ওই বছরই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে গিয়েছেন থাইল্যান্ডে। এমনকি গতবছর সিনিয়ার দলের ক্যাম্পেও ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু করোনার জন্য আর সেই ক্যাম্প বাস্তবের মুখ দেখেনি। তবে কঠিন বাস্তবটা রোজ দেখতে পান সংগীতা। সংসারের অন্যান্য খরচের পাশাপাশি অসুস্থ বাবার চিকিৎসার বিপুল ব্যয়। নির্মাণ শ্রমিক দাদার আয়ও অনিয়মিত। এমন অবস্থায় তাই স্থানীয় ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন। তাঁর কথায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য বাবা তেমন কাজ করতে পারে না। দাদার আয়ও নিয়মিত নয়। তাই আমি গ্রামের ইটভাটায় কাজ করছি। সংগীতা জানিয়েছেন, গতবছর লকডাউনের সময় স্থানীয় প্রশাসন অর্থসাহায্য করেছিল। এমনকি ধানবাদ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। এবছর এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও সাহায্য পাননি।

নিজের অনুশীলনে কোনও ফাঁকি দিচ্ছেন না সংগীতা। রোজ সকালে এলাকার একটি ক্লাবে মেয়েদের সঙ্গে অনুশীলন সেরে তারপর কাজে যান। চ্যালেঞ্জে আরও শক্ত হচ্ছেন তিনি। বললেন, এই কঠিন সময়ে আমি আশা ছাড়ছি না। সেজন্য রোজ সকালে ধানবাদের একটি স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছি। ফুটবল আমার ভালোবাসা। শেষ পর্যন্ত ফুটবলকেই আঁকড়ে থাকব। ধানবাদের জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সচিব মহম্মদ ফৈয়াজ আহমেদের কথায়, সংগীতা পরিশ্রমী ফুটবলার। তবে খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক জোর নেই। রাজ্যে ক্রীড়ার প্রসারের জন্য সরকারের উচিত সংগীতার মতো খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো। সংগীতার কথা জানতে পেরে জাতীয় মহিলা কমিশনও নড়েচড়ে বসেছে। কমিশন সূত্রে খবর, একটি টুইট থেকে বিষয়টি জানতে পেরে চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন। কমিশনের দাবি, সংগীতা বিশ্বের দরবারে ভারতের পাশাপাশি তাঁর রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তাই রাজ্য সরকারের উচিত এসময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানো। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি এবং এআইএফএফ-এর কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

- Advertisement -