নকশালবাড়ির নেপাল সীমান্ত এখন মাদক আর মটরদানা পাচারের করিডর

278

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : ড্রাগসের পাশাপাশি বিদেশি মটরদানা পাচারের সেফ করিডর হয়ে উঠছে নকশালবাড়ি। ব্লকের মণিরামজোত এবং আশপাশের এলাকা দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বেআইনি কারবার হচ্ছে বলে অভিযোগ। খড়িবাড়ির পানিট্যাঙ্কির ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে শুরু করে মেচি নদীকে কেন্দ্র করে নকশাবাড়ির মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত গোটা এলাকাই পাচারকারীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ড্রাগসের কারবারের জেরে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও দিনদিন খারাপ হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসএসবির উত্তরবঙ্গের আইজি শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নকশালবাড়ির ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে আমরা সম্প্রতি প্রচুর পরিমাণ মটরদানা বাজেযাপ্ত করেছি। যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। ড্রাগস নিয়ে আমরা খুব সতর্ক রয়েছি। প্রচুর অভিযান হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই খড়িবাড়ি ব্লকের ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কিতে ড্রাগসের অবাধ কারবার চালু রয়েছে। এই এলাকাতেই প্রচুর ড্রাগস প্যাডলারের বসবাস। মূলত ব্রাউন সুগার, গাঁজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কোম্পানির নামে লেবেল দেওয়া নকল কাশির সিরাপের রমরমা কারবার। এই কারবারিদের গ্রাহকদের সিংহভাগই আসে নেপাল থেকে। পুলিশ বহু ক্ষেত্রেই এই প্যাডলারদের গ্রেপ্তার করে ড্রাগস কসমেটিকস অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করেছে। কিন্তু প্রত্যেক প্যাডলারই খুব বেশি হলে ১৪ দিন পরই জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় পুলিশ কিছুদিন ধরে এই প্যাডলারদের গ্রেফতার করে কড়া ধারায় মামলা করা শুরু করেছে। এর ফলে পানিট্যাঙ্কিতে ড্রাগসের কারবার কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এরকম অবস্থায় এই কারবার ছড়িয়ে পড়েছে নকশালবাড়ির ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকায়। মণিরাম, বামনডাঙ্গি, তারাবাড়ি এলাকার মেচি নদী দিয়ে ড্রাগস কারবারি, গ্রাহকদের যাতাযাত এবং অবাধে সেখানে ড্রাগসের ঠেক বসানো হচ্ছে। নেপালের পাশাপাশি এদেশের যুবসমাজও এই কারবারে শুধু যে যুক্ত হচ্ছে তাই নয়, নিয়মিত ড্রাগস সেবনও করছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন এলাকায় এই কারবারে জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মদত রয়েছে। ড্রাগস প্যাডলারদের থেকে খড়িবাড়ি এবং নকশালবাড়ি এলাকায় কিছু জনপ্রতিনিধি এবং নেতার কাছে নিয়মিত মাসোহারা যায়। ফলে বিষয়টি নিয়ে কেউই উচ্চবাচ্য করেন না।

- Advertisement -

ড্রাগসের পাশাপাশি ইদানীং মটরদানা নেপাল থেকে নকশালবাড়ির নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকছে। সূত্রের খবর, প্রতিদিন ট্র‌্যাক্টরে চাপিয়ে গড়ে ২০০ গাড়ি মটরদানা ভারতে আসছে। বেশিরভাগ পাচার মেচি নদী দিয়ে রাতে করা হচ্ছে। এই মটরদানা ভারতে ঢোকার পর শিলিগুড়ি সহ গোটা উত্তরবঙ্গ এবং বিহারে পাঠানো হচ্ছে। খড়িবাড়ি এবং পানিট্যাঙ্কি থেকে শিলিগুড়িগামী বিভিন্ন বাসে প্রতিদিনই বস্তা বস্তা বিদেশি এই মটর বেআইনিভাবে শিলিগুড়িতে নামছে। দার্জিলিংয়ে পুলিশ সুপার কে অমরনাথ জানিয়েছেন, প্রতি ক্ষেত্রেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। ড্রাগস এবং মটরদানার কারবার রুখতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।