সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করে নজির সোনালী চা বাগানের শ্রমিকদের

187

নাগরাকাটা: সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করে নজির গড়ল ডুয়ার্সের সোনালী চা বাগানের চা-শ্রমিকরা। চা পাতা তুলে বা বাগান পরিচর্যা করেই যাদের দিন কাটে তারাই অবসর সময়ে ফসল ফলিয়ে রীতিমতো উৎসাহিত। গত কয়েকবছর ধরে এই কাজ করে আসলেও ফড়েদের দাপটে ঘরে টাকা ঢুকত না সেভাবে। কিন্তু এবারই প্রথম খাদ্য দপ্তরের সহযোগিতায় সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে পেরে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত শ্রমিকরা। রবিবার ওই বাগাননে সন্ধ্যে পর্যন্ত ধান কেনাবেচা হয়। জেলা খাদ্য নিয়ামক অমৃত ঘোষ বলেন, ‘সোনালী থেকে আমাদের কাছে আবেদন এসেছিল। সেই মোতাবেক স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা হয়েছে। এলাকাটি প্রত্যন্ত হওয়ায় সেখানেই শিবির বসানো হয়। চাষিদের পাশে খাদ্য দপ্তর রয়েছে।’

মালবাজার ব্লকের বাগরাকোট গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সোনালী চা বাগানে প্রচুর বাসিন্দা রয়েছেন যারা চা শ্রমিকের পাশাপাশি কৃষি কাজও করেন। তিস্তা নদীর পাড়ের বিস্তীর্ণ জমিতে সেখানে চাষাবাদ হয়। এতদিন দালালদের হাতে তাঁরা ফসল বিক্রি করতেন। দাম মিলত কিলো প্রতি ১৩ টাকা। সরকারী সহায়ক মূল্যে বিক্রি করায় মিলেছে কিলো প্রতি ১৮.৬৮টাকা। এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেখানকারই কিছু আদিবাসী শ্রমিক পরিবারের যুবক-যুবতিরা। প্রায় ১৩৬ কুইন্টাল ধান এদিন বিক্রি হয় বলে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

বাগানের শ্রমিক শর্মিলা ওরাওঁ বলেন, ‘এখানে যে ধান কেনার শিবির হবে তা ঘরে ঘরে গিযে প্রচার করা হয়। প্রথমে কেউ বিশ্বাসই করতে চাইছিল না। পরে অনেকেই ধান বিক্রিতে এগিয়ে আসেন।’ জোন ওরাওঁ নামে এক যুবক বলেন, ‘আমার পরিবারও শিবিরে ধান বিক্রি করেছে। হিসেব করে দেখলাম একজন চাষি যদি ২০ কুইন্টাল ধান দালালকে বিক্রি না করে সরকারকে বিক্রি করে তবে ১২ হাজার টাকা বেশী আয় হয়। এবারে একটি সমবায় গড়ে নিজেরাই এমন শিবির বসাতে উদ্যোগ নেব।’ ওদলাবাড়ির কাঞ্চনকন্যা সংঘ নামে একটি মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে সোনালীতে ধান কেনা হয়। ওই সংঘের সভানেত্রী রিতা সেন বলেন, ‘বাগানের সাউগাঁও বস্তীতে ধান কেনার শিবির বসে। প্রত্যন্ত এলাকা হলেও ওখানে গিয়ে খুব ভালো লেগেছে। সবার সহযোগিতা পেয়েছি।‘