শিলিগুড়ি : প্রতিবার টেন্ডারে ১০-১২টি সংস্থা অংশ নিলেও বারবার জীবন রাই নামে এক ব্যক্তির সংস্থাকেই অস্থায়ী কর্মচারী নিযোগের বরাত পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। এমনকি মেডিকেলের নিরাপত্তারক্ষী নিযোগের ক্ষেত্রে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার জন্য প্রাইভেট সিকিউরিটি এজেন্সিস রেগুলেশন অ্যাক্ট-২০০৫ অনুয়ায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থার লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই লাইসেন্স ছাড়াই বারবার ওই ব্যক্তিকেই বরাত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিযে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একাধিক সংস্থা বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিযে কোনো সদুত্তর পাযনি। কীসের ভিত্তিতে এবং কার অঙ্গুলিহেলনে বারবার এই ব্যক্তি মেডিকেলে অস্থায়ী কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী নিযোগের বরাত পেযে যাচ্ছেন, তা নিযে প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি নিয়ে মেডিকেলের কোনো আধিকারিক মুখ খুলতে চাননি। তবে, রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

প্রায ১৫-২০ বছর ধরে মেডিকেলে দুই শতাধিক অস্থায়ী কর্মী নিযোগের বরাত পেয়েছেন জীবন রাই নামে এক ব্যক্তি। এই নিয়োগ নিয়ে টেন্ডার হলেই ওই ব্যক্তিই ভিন্ন ভিন্ন নাম দিয়ে দর একটু অদল-বদল করে চার-পাঁচটি টেন্ডার পেপার জমা দেন বলে অভিযোগ। সরকারি নিয়মে তিনটি টেন্ডার পেপার জমা পড়লেই সেই টেন্ডার প্রক্রিয়া বৈধ বলে ধরে নেওয়া হয়। কাজেই আর কেউ টেন্ডারে অংশ না নিলেও জীবনবাবুর দেওয়া টেন্ডার বৈধ হযে য়ায। তবে, গত কয়েক বছর ধরে শিলিগুড়ির আরও ১০-১২টি সংস্থা মেডিকেলে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বরাত পাওয়ার জন্য টেন্ডারে অংশ নিচ্ছে। প্রতি বছরই টেন্ডারে অন্যান্য সংস্থা অংশ নিলেও কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে প্রাথমিক পর্ব থেকেই সিংহভাগ সংস্থার টেন্ডার বাতিল করে দেওয়া হয। কিন্তু ওই ব্যক্তির প্রত্যেকটি টেন্ডারই বৈধ বলে বিবেচিত হয।

সরকারি নিযমে নিরাপত্তারক্ষী নিযোগ করতে গেলে সেই সংস্থাকে অবশ্যই স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রাইভেট সিকিউরিটি এজেন্সিস রেগুলেশন অ্যাক্ট-২০০৫ অনুয়ায়ী লাইসেন্স নিতে হবে। টেন্ডার জমা দেওয়ার সময সেই লাইসেন্সের বিষয়ে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। অথচ নিরাপত্তারক্ষী নিযোগের জন্য বৈধ লাইসেন্স না থাকলেও ওই ব্যক্তিকেই বারবার নিরাপত্তারক্ষী নিযোগের বরাত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক বেসরকারি সংস্থার কর্তারা জানিয়েছেন, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বহু বছর ধরে জীবন রাই নামে ওই ব্যক্তিকেই মেডিকেলের সমস্ত টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ১০০ কর্মীও প্রতিদিন কাজ করছে না সেখানে দ্বিগুণ বিল বানিযে তা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এসব কাণ্ড কারও অজানা নয়। তবুও বছরের পর বছর এভাবেই চলছে। এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন ওই সংস্থাগুলির কর্তারা।

তথ্য- রণজিৎ ঘোষ