লালা পরীক্ষায় বেশি সময় লাগায় ক্ষোভ

215

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের লালার নমুনা পরীক্ষায় অনেক দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যুর পরে রিপোর্ট আসছে, অথবা রোগী মারা যাওয়ার পরে লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তারপরেও রিপোর্টের জন্য মৃতদেহ বেশ কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে রেখে দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে হাসপাতালগুলির আধিকারিকদের। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা সেই মতো চলতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে, আশার কথা এখানে ট্রুনাট এবং সিবি নাট মেশিন এসেছে। দুএকদিনের মধ্যেই সেই দুটি মেশিনেও লালার নমুনা পরীক্ষা করা হবে।  উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক সমাজদার বলেন, আমাদের ল্যাবরেটরিতে অত্যাধুনিক আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে লালার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় একটা নমুনা পরীক্ষা হতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগছে। তবে, আরও দ্রুত পরীক্ষার জন্য নতুন দুটি মেশিন এসেছে। সেগুলিতে জরুরিভিত্তিক পরীক্ষা করা যাবে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড, রেসপিরেটরি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (রিকু)-এ যেমন করোনার উপসর্গ নিয়ে রোগীরা ভর্তি থাকছেন, তেমনই মেডিকেল সংলগ্ন কাওয়াখালির সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস (সারি) হাসপাতালে প্রচুর রোগী প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে এত বেশি সময় কেন লাগছে? কেন মৃত্যুর পরে রোগীদের লালার নমুনা নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও অনেকেই তুলছেন।

- Advertisement -

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর গত ১৭ এপ্রিল থেকে কাওয়াখালিতে সারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত সেখানে আটজন রোগীর মৃতু্য় হয়েছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যুর পরে রোগীদের লালার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন এমনটা হচ্ছে? করোনা রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত না হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা ঠিকঠাক করা হচ্ছে তো? মেডিকেল সুপার বলেন, উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের ভিআরডিএলে শুধু শিলিগুড়ি শহর বা দার্জিলিং জেলার নয়, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকেও এখানে রোগীদের লালার নমুনা আসছে এবং প্রতিদিনই প্রতি জেলা থেকে শয়েশয়ে নমুনা আসছে। পাশাপাশি সিকিম থেকেও নমুনা এখানে পাঠানো হচ্ছে। ফলে প্রচুর চাপ এখানে রয়েছে। তিনি বলেন, ভিআরডিএলে আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে একটা লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগছে। একসঙ্গে ৫০-৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। এই নমুনা পরীক্ষার পরে তার রিপোর্ট প্রথমে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর পোর্টালে দিতে হয়। সেখান থেকে সবুজ সংকেত আসার পরে এখানে রিপোর্ট নথিভুক্ত করেন ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা। ফলে একটা লম্বা সময় লাগছে। কিন্তু যে সমস্ত রোগী খুবই সংকটজনক পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য আসছেন তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দার্জিলিংয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বলেন, ল্যাবরেটরি থেকে রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে এটা ঠিকই। তবে, আমরা ওই ল্যাবরেটরিতে লোকবল বাড়াচ্ছি য়াতে ডেটা এন্ট্রির কাজটা আরও দ্রুত করা যায়। ট্রুনাট এবং সিবি নাট মেশিনও এসেছে। সমস্যা কিছুটা মিটবে বলে আশা করছি।