রাতের বাসের নিরাপত্তা নিয়ে এনবিএসটিসির কর্মীরা চিন্তিত

676

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : ময়নাগুড়িতে বাস ডাকাতির পর রাতে দূরপাল্লার রুটে সরকারি বাসে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং শিলিগুড়ি থেকে যে সমস্ত সরকারি বাস রাতে দক্ষিণবঙ্গের জেলা সহ কলকাতায় যাতায়াত করছে তাতে যাত্রীদের কোনও নিরাপত্তা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাগুড়ির এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি বাসকর্মীদের একাংশ। রাতের বাসে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি তুলেছেন বাসকর্মীদের একাংশ। যদিও বাসে নিরাপত্তা নেই এই অভিযোগ মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার বলেন, ময়নাগুড়িতে বেসরকারি বাসে ডাকাতি একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা হলেও দুঃখজনক। তবে, এই ঘটনার সঙ্গে সরকারি বাসের নিরাপত্তার বিষয়টি মিলিয়ে ফেললে চলবে না। সব জায়গার রাস্তাতেই পুলিশ পেট্রল হয়। রাতে যে সমস্ত বাস চলাচল করে সেগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালায় পুলিশ। কর্তৃপক্ষ যাত্রী এবং কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সবসময় সচেষ্ট। তবে বাসের চালক এবং কর্মীদের আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। বাসের কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন চেয়ারম্যান।

আগে যখন সরকারি রকেট বাস পরিষেবার রমরমা ছিল, তখন মাঝেমধ্যেই শিলিগুড়ি-কলকাতা রুটে বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটত। সেসময় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রাতের প্রতিটি বাসে বন্দুকধারী দুজন করে পুলিশ দেওয়া হত। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সরকারি বাসকে পুলিশ ভ্যান এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছে তাও দেখা যেত। এছাড়া পুলিশের তরফে সেই সময় বাসয়াত্রীদের মুখের ছবি ভিডিও ক্যামেরায় বন্দি করা হত। কারণ কোনও যাত্রী যদি দুষ্কৃতী হয়, তাহলে তাকে চিহ্নিত করা সহজ হবে। কিন্তু এখন রাতের বাসে পুলিশ দেওয়া তো দূরের কথা, যাত্রী নিরাপত্তার জন্য অত্যাধুনিক জিপিএস সিস্টেম থেকে শুরু করে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হলেও তার বেশির ভাগটাই নাকি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। সোমবার রাতে ময়নাগুড়িতে বাস ডাকাতির ঘটনা ফের নতুন করে মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি শহরের প্রবীণ নাগরিক প্রদীপ কর্মকার বলেন, একসময় জলপাইগুড়ি থেকে রকেট বাসে নিয়মিত কলকাতা যাতায়ত করতাম। সেই সময় রাতের বাসে ডাকাতির ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটত। যে কারণে বাসে দুজন বন্দুকধারী পুলিশ দেওয়া হত। কিছু জায়গা ডাকাতিপ্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত করা ছিল। সেই সমস্ত জায়গায় পুলিশ ভ্যান দিয়ে বাস পার করানো হত। বহু বছর পর ময়নাগুড়িতে বাস ডাকাতির ঘটনা প্রদীপবাবুর পুরোনো স্মৃতিকে উসকে দিল। নর্থবেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট এমপ্লযিজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গৌতম কুণ্ডু বলেন, ময়নাগুড়ির বাস ডাকাতির ঘটনায় আমাদের কর্মীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই যাত্রী এবং কর্মী নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমাকে জানিয়েছেন। বাসে এখন বন্দুকধারী পুলিশ দেওয়া না হলেও আগে মাঝেমধ্যে হাইওয়ে পেট্রল পুলিশ রাতে গাড়ি থামিয়ে চেক করত। কিন্তু লকডাউনের পর থেকে এখন সে সব আর হচ্ছে না। এখন গাড়ি কম চলায় আগের তুলনায় রাস্তাও কিছুটা ফাঁকা থাকে। যাত্রী এবং কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে চলেছেন গৌতমবাবুরা।