উত্তরবঙ্গের একমাত্র সরকারি মহিলা শারীরশিক্ষা কলেজের অনুমোদন বাতিল

297

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, কোচবিহার : দিনহাটায় উত্তরবঙ্গের একমাত্র সরকারি মহিলা শারীরশিক্ষা কলেজের অনুমোদন বাতিল করল এনসিটিই (ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন)। কলেজ পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা দিনহাটার মহকুমা শাসক শেখ আনসার আহমেদ জানিয়েছেন, পড়ুয়ার সংখ্যার অনুপাতে কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা অনেকটাই কম। মূলত সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে এনসিটিই। এছাড়া কলেজের বিল্ডিং তৈরি সহ আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। সে সব কারণেই অনুমোদন বাতিলের চিঠি পাঠিয়েছে। মহকুমা শাসক বলেন, জুলাই মাস থেকে কলেজের নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। অনুমোদন বাতিল হওয়ায় চলতি বছর ভর্তি নেওয়া হবে না। অনুমোদন ফিরে পেতে আমরা এনসিটিই কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের তরফেও পদক্ষেপ করা হয়েে।

১৯৮৫ সালে দিনহাটার পুঁটিমারিতে ওই কলেজ তৈরি হয়। ২০০৭ সালে কলেজটি এনসিটিইর অনুমোদন পায়। শুরু থেকে কলেজটি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে সেটি কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আছে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হল, অনুমোদন বাতিলের কথা এখনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানায়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য দেবকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, এখনও পর্যন্ত কলেজের তরফে এই বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই আমাদের জানানো উচিত ছিল। কেন বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়নি তা নিয়ে অবশ্য কোনও কথা বলতে চাননি কলেজের অফিসার ইনচার্জ স্বপ্না রায়।

- Advertisement -

ওই কলেজে শারীরশিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি (বিপিএড) দেওয়া হয়।  প্রত্যেক বছর কলেজে ৫০ জন ছাত্রী ভর্তির সুযোগ পান। কলেজের অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, কলেজে অধ্যাপকের পদ রয়েছে নটি। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে পাঁচটি পদ ফাঁকা আছে। শিক্ষাকর্মীর বেশিরভাগ পদও ফাঁকা রয়েছে। একজন মাত্র নৈশপ্রহরী থাকায় হস্টেলের ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেশ কয়েক বছর থেকে হস্টেলে রান্নার কোনও স্থাযী কর্মী নেই। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ চালানো হচ্ছে। সূত্রের খবর, কলেজের এই অব্যবস্থার জেরেই ক্ষুব্ধ হয়েছে এনসিটিই। পরিকাঠামো উন্নয়নে কবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তা জানতে চেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছিল এনসিটিই কর্তৃপক্ষ। তার যথাযথ উত্তর না পাওয়াতেই অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

স্বপ্না রায় বলেন, কিছু সমস্যা আছে। আমরা পরিচালন কমিটিতে আলোচনা করেছি। শিক্ষা দপ্তর এবং এনসিটিইকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অনুমোদন ফিরে পাব। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকেই অনুমোদন বাতিলের চিঠি পাঠিয়েছে এনসিটিই। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে। উচ্চপ্রাথমিক স্তরের জন্য প্রতিটি স্কুলে শারীরশিক্ষার কমপক্ষে একজন করে শিক্ষক রাখার কথা বলেছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। তাই স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিযোগ পরীক্ষায় বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে শারীরশিক্ষা। উত্তরবঙ্গের একমাত্র সরকারি মহিলা কলেজের অনুমোদন বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উত্তরের পড়ুয়ারা। সরকারি কলেজে সামান্য খরচেই পড়াশোনা করা এবং হস্টেলে থাকার সুবিধা পেতেন ছাত্রীরা। বেসরকারি কলেজে ওই কোর্সে পড়তে হলে মোটা টাকা প্রয়োজন। অনেকেরই সেই সামর্থ্য নেই। কোচবিহার শহরের বাসিন্দা অনুস্মিতা সাহা বলেন, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলোর চর্চা করছি। তাই শারীরশিক্ষা নিয়ে পড়তে চাই। ভর্তির জন্য খোঁজখবর নিতে গিয়ে জানতে পারি দিনহাটার সরকারি কলেজের অনুমোদন বাতিল হয়ে গিয়েছে। বাইরে গিয়ে পড়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। কলেজের অনুমোদন ফেরাতে রাজ্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি তুলেছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।