খিদের জ্বালায় কাগজ কুড়োচ্ছে বিহারের দুঃস্থ পড়ুয়ারা

223
প্রতীকী ছবি

পাটনা : একপেট খিদে নিয়ে কতদিন থাকা যায়? মহামারি করোনাকে রুখতে লকডাউনের জেরে স্কুলে তালা পড়েছে। বন্ধ মিড-ডে মিল সরবরাহ। দুটো খাবারের লোভে যারা স্কুলে যায়, সেই পড়ুয়াদের কাছে খাবার পাওয়াটাই আসল কথা। বর্তমান পরিস্থিতিতে পেটের দায়ে বইখাতার পাট চুকিয়ে আবর্জনা থেকে কাগজ কুড়োতে ব্যস্ত বিহারের ভাগলপুরের মুশাহারিটোলার মহাদলিত বস্তির শিশু, কিশোররা। শুধু ভাগলপুর নয়, বিহারের সমস্ত গরিব মহল্লায় এটাই দস্তুর হয়ে উঠেছে। পেটের জ্বালায় পূর্ণিমার চাঁদও ঝলসানো রুটি মনে হয়। বস্তির এই কচিকাঁচারা তো নেহাতই শিশু। তাদের কাছে খাওয়াটাই বড়। মা-বাবারাও নিশ্চিন্ত থাকতেন এই ভেবে তবুও তো স্কুলে গিয়ে একবেলার খাবার জুটছে। মহামারির ছোবলে স্কুল বন্ধ। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের সন্তানেরা স্কুল বন্ধ থাকায় অভুক্ত থাকতে থাকতে অপুষ্টিরও শিকার হচ্ছে। এমনিতে বিহারের পাঁচ বছরের কমবয়সি শিশুরা শারীরিকভাবে দুর্বল।

২০১৫-১৬ সালে জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পাঁচ বছরের নীচে থাকা এই রাজ্যে ৪৮.৩ শতাংশ শিশুর শরীর শক্তপোক্ত নয়। ৪৩.৯ শতাংশ শিশুর ওজন কম। ১০ বছর আগে শিশুদের শারীরিক অবস্থার ছবিটা আরও খারাপ ছিল। মিড -ডে মিল দেওয়া শুরু হওয়ায় শারীরিক ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। মুশহারিটোলার মহাদলিত কলোনি, দুধেলা, শাহবাদের স্কুলগুলিতে মিড -ডে মিলের আহার বলতে ভাত কখনও রুটি, সঙ্গে ডাল, সবজি, সয়াবিন বাঁধা। শুক্রবারে ডিম। বস্তির এক পড়ুয়ার কথায়, আমাদের সবথেকে প্রিয় দিনটা হল শুক্রবার। ওইদিনই তো ডিম দেয়। লকডাউনের আগে বস্তিবাসীর কারোর দিনপিছু আয় ছিল ৩০০ টাকা, কারও ২০০ টাকা। এক মহিলার কথায়, এক মাস আগে সরকারি আধিকারিকেরা প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় র‌্যাশন কার্ড পিছু ৫ কিলো চাল বা গম, ১ কিলো ডাল দিয়েছিলেন। একবার দিয়ে আর কেউ এলেন না। ১ কিলো ডালে একটা পরিবারের কতদিন চলতে পারে?

- Advertisement -

প্রশাসন শিশুদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। টাকা যাচ্ছে অভিভাবকদের অ্যাকাউন্টে, যা তাঁরা অন্য খাতে খরচ করে ফেলছেন। জেলা শাসক প্রবীণ কুমার বলেন, ১৪ মার্চ বিহার সরকারের নির্দেশিকা অনুয়াযী, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের ১৫ দিনের জন্য ১১৪.২১ টাকা ও ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ১৭১.১৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শান্তিদেবী কন্যা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কথায়, দ্বিতীয় পর্যায়ের লকডাউন পর্যন্ত টাকা এসেছিল। তারপর তা পাঠানো হয়েছে অভিভাবকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এই বাজারে ওই টাকায় কিছু হয় কি, এই প্রশ্ন শিক্ষক থেকে অভিভাবক সবার। টাকা না দিয়ে প্রশাসনের তরফে শিশুদের জন্য চাল, সবজি, ডিম কি পাঠানো যেতে পারত না? প্রশ্ন অনেকের।