ভিটে ছাড়া বৃদ্ধ দম্পতি, আশ্রয় দিয়েছেন পড়শিরা

234

রায়গঞ্জ: দীর্ঘদিন ধরে ভিটে ছাড়া সুভাষগঞ্জের কোতগ্রামের বৃদ্ধ দম্পতি গোপী দাস ও দুর্গা দাস। জানা গিয়েছে, ছেলের নামে জমি লিখে না দেওয়ায় ছেলে-পুত্রবধূর ভয়ে আজও বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না তাঁরা। অনেক জায়গায় আবেদন-নিবেদন করেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন এক পড়শির বাড়িতে। বাদাম বিক্রি করে যে রোজগার হয় তা দিয়ে কোনওরকমে দিন চলে তাঁদের। এদিকে কার্যত লকডাউনে সেটাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দু’বেলা খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বৃদ্ধ দম্পতির।

বৃদ্ধ দম্পতির চার ছেলে এবং তিন মেয়ে রয়েছে। এক ছেলে কৃষ্ণ দাস পরিবার নিয়ে পাশেই থাকেন। কৃষ্ণ টোটো চালায় এবং তাঁর স্ত্রী কৌশল্যা পরিচারিকার কাজ করেন। আর এক ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাঁর দায়িত্ব নিয়েছেন সমাজকর্মী কৌশিক ভট্টাচার্য। বৃদ্ধ গোপী দাস জানান, ছেলে কৃষ্ণের অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন পড়শি সুকুমার দাসের বাড়িতে। তাঁর নামে জমি লিখে না দেওয়ায় বাড়িতে থাকতে দেন না। মোট চার কাঠা জমি রয়েছে তাঁদের। বৃদ্ধা দুর্গা দাস জানান, ছেলের নামে বাড়ি-জমি না লিখে দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করে। তাই প্রাণের ভয়ে অন্য একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। যদিও ওই বিষয়ে পুত্রবধূ কৌশল্যা শ্বশুর-শাশুড়ির অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি জানান, বাড়ির চার কাঠা জমি কেনার সময় তাঁদের ছেলে টাকা দিয়েছিল। এখন তাঁরা চাইছেন ছেলে-পুত্রবধূকে জমি থেকে তুলে দিয়ে সম্পূর্ণ জমি বিক্রি করে দিতে। পাশাপাশি তিনি জানান, এক ছটাক জমিতে মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর রয়েছে। পাশাপাশি মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

- Advertisement -

স্থানীয় ভারতী দাস জানান, ছেলের অত্যাচারে বাড়ি-ঘর ছেড়ে স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। তিনি বাড়িতে ১৫ দিন রাখেন। কিন্ত কার্যত লকডাউনে নিজের রোজগারই ঠিক নেই। তাই তাঁরা সুকুমার দাসের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সুকুমারবাবু জানান, ছেলের অত্যাচারে পথে বসেছে বৃদ্ধ দম্পতি। তাই তিনি থাকতে দিয়েছেন। বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী প্রবীর চৌধুরী। তিনি জানান, ছেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃদ্ধ দম্পতি যাতে ন্যায় বিচার পান সেকারণে এসডিও কোর্টে আপিল করা হয়েছে। মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কমল দেবশর্মা জানান, বৃদ্ধ দম্পতি যাতে সবরকম সরকারি সুযোগ সুবিধা পান তা দেখা হবে।