নয়ারহাট, ২৮ অগাস্ট : নেন্দা নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিন ভাই। দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও ওই নদীকে তাঁরা আপন করে নিয়েছিলেন। সকাল ও বিকেলের স্নিগ্ধ হাওয়া, আপন খেয়ালে চলা নদীর জলে স্নান করে শরীর জুড়িয়েছে তাঁদের। কিন্তু সেই নদী যে এতটা ভযংকর হতে পারে বছর দেড়েক আগেও টের পাননি তাঁরা। যখন টের পেলেন তখন কিছুই আর করার নেই তাঁদের। কয়েকদিন আগেই একটি ঘর ও গাছ চলে গিয়েছে নদীর গর্ভে। য়েকোনো মুহূর্তে বাস্তুভিটে সহ বাড়ির সবকটি ঘরও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এই অবস্থায় মহা ফাঁপরে পড়েছেন মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পূর্ব নলঙ্গিবাড়ি এলাকার সুভাষ রায়, পূর্ণ রায় ও বুদা রায়। বাস্তুভিটে ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবেন তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রমশ পুরু হচ্ছে তাঁদের। শ্রমজীবী পরিবার তিনটির শুধুমাত্র এই বাস্তুভিটে ছাড়া জমি নেই। বাড়ি সরিয়ে আনার জন্য জমি কেনার আর্থিক সামথর্যও নেই তাঁদের। ফলে প্রশাসনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো গতি নেই তাঁদের।

তিন ভাইয়ের অন্যতম সুভাষ রায় বলেন, কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এতদিন নদীর পাড়ে পরিবার নিয়ে ভালোই ছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস! যে নদীকে আপন করে নিয়েছিলাম তার ভাঙনেই অবশেষে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে আমাদের। কী করব, কোথায় য়াব, কিছুই বুঝতে পারছি না। তিনি জানান, গতবছর নদী তাঁদের বাস্তুভিটে ও বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছিল। তখনই শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এবছর বর্ষার শুরুতেই ফের ভাঙন শুরু হয়। কয়েদিন আগেই বাড়ির উত্তর দিকের ঘরটি নদীর গর্ভে চলে গিয়েছে। নদী গিলে নিয়েছে তাঁদের কয়েকটি গাছও। একই চত্বরে থাকা বাকি ঘরও যে কোনো মুহূর্তে চলে যেতে পারে নদীর গর্ভে। চোখের জল মুছতে মুছতে সুভাষবাবু বলেন, অতি দ্রুত প্রশাসন এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে স্ত্রী ও সন্তানের হাত ধরে দুচোখ যেদিকে য়ায় সেদিকে যাওয়া ছাড়া আমাদের তিন ভাইয়ে আর কোনো উপায় থাকবে না।

এলাকার পঞ্চায়ে সদস্য জিতেন বর্মন বলেন, আমি ভাঙন সমস্যা দেখে এসেছি। বোল্ডারের পাড়বাঁধ তৈরি করা ছাড়া ওই তিন ভাইয়ে বাড়িঘর রক্ষা করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানিয়েছি। গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারপ্রাপ্ত নির্মাণসহায়ক মলয় অধিকারী বলেন, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।