চার বছর ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে নেতাজি সেতু, চলাচলে সমস্যা

সিতাই : চার বছর ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে নেতাজি সেতু। ফলে সিতাইয়ের বহু মানুষ যাতায়াত সমস্যায় ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু ভেঙে পড়ে থাকলেও প্রশাসন সম্পূর্ণ উদাসীন। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। উলটে সাঁকো দিয়ে যাতায়াতে গুনতে হচ্ছে পকেটের অর্থ। ওখানে সেতু বানানোর আশ্বাস মিলেছে।

স্থানীয় ও ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সিতাইয়ে চামটা ও ব্রহ্মোত্তরচাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমানায় গিরিধারী নদীর উপরে নেতাজি সেতু ২০১৭ সালে ভেঙে পড়ে। উভয় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪০ হাজারের বেশি বাসিন্দা যাতায়াত সমস্যায় পড়েন। সেতুর একদিকে রয়েছে নগরগিরিধারী হাট। সেখানে ব্রহ্মোত্তরচাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতে0র অন্দরান সিঙ্গিমারি, নাকারজান, তামাগুড়ি, গাবুয়া প্রভতি এলাকার বহু মানুষ তাঁদের উত্পাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে যান। অন্যদিকে চামটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বরথর, পানিখাওয়া, কোনাচামটা প্রভৃতি এলাকার হাজার হাজার মানুষকে এই সেতু দিয়ে নদী পেরিয়ে সোজাসুজি দিনহাটার সঙ্গে সংযোগ রাখতে হয়। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে অতি প্রাচীন এই দুর্বল সেতুটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতু ভেঙে পড়ে থাকলেও প্রশাসন সম্পূর্ণ উদাসীন। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। অথচ বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকা দিয়ে এই নদী পারাপারে বাসিন্দাদের পয়সা দিতে হচ্ছে। এতে এলাকার দুঃস্থ সাধারণ বাসিন্দারা বেকায়দায় পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রমেশ বর্মন বলেন, সেতুর অভাবে উৎপাদিত ফসল স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া বা হাটবাজার থেকে কৃষিকাজের জন্য সার-বীজ ইত্যাদি কিনে আনার ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অপর বাসিন্দা জব্বার মিয়াঁ বলেন, আমরা কম সময়ে সেতু পেরিয়ে সহজেই দিনহাটা যেতে পারতাম। কিন্তু সেতু ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত হয়। বাধ্য হয়ে ঘুরপথে আমাদের দিনহাটার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সেতু ভেঙে গিয়েথে। তাই নদী পারাপারে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সাঁকোর ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত। কিন্তু তা করা হয়নি। ছোট্ট এই নদী সাঁকো দিয়ে পারাপারে পয়সা দিতে হয়। এলাকার অনেকের একই অভিযোগ। বাসিন্দারা সেখানে সেতু তৈরির দাবিতে সরব হয়েছেন।

- Advertisement -

চামটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপনকুমার দাস বলেন, গত আর্থিক বছর থেকে স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতে ঘাটটিকে নেওয়া হয়েছে। স্বপনবাবুর দাবি, এতে শুধুমাত্র যানবাহন ছাড়া স্থানীয় সকলেই বিনা পয়সায় যাতায়াত করতে পারছেন। সাঁকো বা নৌকা সংরক্ষণের স্বার্থে যানবাহন পারাপারে ওই সামান্য পয়সা নিতে হচ্ছে। ব্রহ্মোত্তরচাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমিত্রা বর্মন বলেন, সেতুর অভাবে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ যাতায়াত সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। উভয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অবশ্য বলেন, সমস্যার কথা বিডিওকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। বিডিও অমিতকুমার মণ্ডল বলেন, ওই সেতুর অভাবে সিতাইয়ে সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। ওই জায়গায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর সেতু বানাবে। কিন্তু পরপর দুবার টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ায় কাজটি হয়নি। তবে জেলা পরিষদে সেতুটির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছি। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, শীঘ্রই ওখানে নতুন সেতু তৈরি করার জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদকে অনুরোধ করেছি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উত্তম চৌধুরী বলেন, সিতাইয়ে ভাঙা সেতুর জায়গায় নতুন সেতু তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিলম্ব হচ্ছে। যত শীঘ্র সম্ভব ওখানে সেতু তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।