সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুতে উত্তেজনা রায়গঞ্জ মেডিকেলে

540

রায়গঞ্জ: সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মৃতের আত্মীয় ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাস। গতকাল রাতে এক প্রসূতি প্রসব বেদনা নিয়ে বাড়িতেই ছটফট করতে থাকেন। ডাকা হয় স্বাস্থ্যকর্মী ও সেকেন্ড এএনএমকে। বারবার ডেকেও কোনও সারা না পেয়ে প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় একটি টোটো গাড়ি করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রায়গঞ্জ শহরের বকুল তলা এলাকায় টোটোর মধ্যেই পুত্র সন্তান জন্ম দেয় ওই প্রসূতি। সঙ্গে সঙ্গে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে মা ও সদ্যোজাত পুত্র সন্তানকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সদ্যোজাত শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও দীর্ঘক্ষণ পরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের এসএনসিইউ বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর মৃত্যু হয় সদ্যোজাত পুত্রসন্তানের।এরপরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর আত্মীয়রা। দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা, তারপর মারপিট শুরু হয়ে যায়। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘রাস্তার মধ্যেই সন্তান প্রসব করেছেন। হাসপাতালে প্রসূতি ও সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে আসলে দুজনেরই চিকিৎসা শুরু হয়ে যায়। তার দাবি চিকিৎসার কোনও গাফিলতি হয়নি।‘

- Advertisement -

অন্যদিকে, মৃতার স্বামী কুদ্দুস আলী বলেন, ‘স্থানীয় আশা কর্মী ও নার্সকে বারবার ডাকা হলেও তাঁরা আসেনি। বাধ্য হয়েই টোটো করে আমার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার পথে রায়গঞ্জ শহরের বকুল তলা এলাকায় টোটোর মধ্যেই প্রসব করেন। দু’জনকেই ভর্তি করা হয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দীর্ঘক্ষণ আমার সদ্যোজাত সন্তান গাইনি বিভাগে পড়েছিল। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও অনেক দেরি করে এস এস সি ইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর আমাদের জানানো হয়। সদ্যজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। তার প্রতিবাদ করেছি আমরা, আমরা মারপিট বা ভাঙচুর কিছুই করিনি। উলটে হাসপাতালের কর্মীরাই আমাদের উপর চড়াও হয়।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রসূতির নাম মর্জিনা খাতুন বাড়ি রায়গঞ্জ থানার ১৩ নম্বর কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কর্ণজোড়া মসজিদ পাড়া এলাকায়। স্থানীয় তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সাহেব আলী বলেন, ‘স্থানীয় আশা কর্মী রেহেনা খাতুন ও এএনএম তনুজা খাতুনকে বারবার ডাকা হয়েছিল ১০২ অ্যাম্বুলেন্সকে বারবার ফোন করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে টোটো করে ওই প্রসূতিকে নিয়ে যাওয়ায় রাস্তার মধ্যেই সন্তান প্রসব করে ফেলেন। আমি আশা কর্মী ও স্বাস্থ্য কর্মীর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ করেছি।‘ মৃত সদ্যোজাত শিশুর পরিবারের অভিযোগ আশা কর্মী স্বাস্থ্যকর্মী ও ১০২ অ্যাম্বুলেন্স না আসার পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই মৃত্যু হল সদ্যজাত সন্তানের। এদিন বিকেল তিনটে নাগাদ ওই সদ্যজাত সন্তানের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। রায়গঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পাশাপাশি, সদ্যোজাত পুত্র সন্তানের মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা পেরোতেই ফের সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ থানার গৌরী গ্রামপঞ্চায়েতের নরম কলোনির বাসিন্দা সাজো খাতুন ৩ তারিখ প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হয়। এদিন সকালে লেবার রুমে নিয়ে গিয়ে নরমাল ডেলিভারি করায় কর্তব্যরত গাইনি চিকিৎসক। সদ্যোজাত কন্যা সন্তানের শ্বাসকষ্ট ও ওজন কম হওয়ায় এসএনসিইউ বিভাগে রেফার করে চিকিৎসক। গাইনি বিভাগ থেকে এসএনসিইউ বিভাগের দূরত্ব ১০০ মিটার লিফট থেকে নামার পর সেখান থেকে ১০০ মিটার দূরে এসএনসিইউ বিভাগে ভর্তি করতে হয়। ওই সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০০ টাকা দাবি করে আয়া মাসি।

সেই টাকা না দেওয়ার জন্যই ওই শিশুকে এসএনসিইউ বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় ওই সদ্যোজাত কন্যা সন্তানের। এদিকে ওই গৃহবধূর স্বামী রফিক আলী দিল্লিতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে কর্মরত। পরিবারের লোক বলতে ওই গৃহবধূর মা রোহিমা খাতুন ও মাসি সাবিনা বেগম। তাদের অভিযোগ টাকা না দেওয়ার জন্যই বেঘোরে প্রাণ হারাতে হল সদ্যোজাত কন্যা সন্তানের। বর্তমানে ওই সদ্যোজাত শিশুর মৃতদেহ রয়েছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘অভিযোগ পেলে অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘