বরেলি, ২০ জুনঃ কয়েকদিন আগেই রোগীমৃত্যু নিয়ে ধুন্ধুমার হয়েছিল কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে। ঘটনার জেরে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির রেশ ছড়িয়েছিল গোটা দেশে। এবার ফের চিকিত্সকদের গাফিলতিতে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে। অসুস্থ শিশুকে ভরতি না নেওয়ায় একটি হাসপাতালের সুপারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইসঙ্গে আরও একটি হাসপাতালের সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ জুন বরেলির মেল হাসপাতালে জন্মেছিল ঊর্বশী। জন্মের পরেই তার কিছু শ্বাসজনিত সমস্যা দেখা দেয়। বুধবার সেই সমস্যা চরমে ওঠে। শিশুটির বাড়ির লোক জানিয়েছেন, বুধবার সকাল থেকেই ঊর্বশীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ডাক্তার-নার্সদের ডেকে আনলে তাঁরা জানান, হাসপাতালে বেড কম, পাশের উইমেন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে শিশুটিকে। কিন্তু সেই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বেড মেলেনি। ফের মেল হাসপাতালেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় ঊর্বশীকে। ঘণ্টা তিনেক এভাবে দৌড়াদোড়ির মাঝেই হাসপাতালের সিঁড়িতে মৃত্যু হয় ঊর্বশীর। শিশু মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। শিশুটির মেডিক্যাল স্লিপ, এবং দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির খবর সামনে এনে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। মেল হাসপাতালের সুপার ডঃ কমলেন্দ্রস্বরূপ গুপ্ত ও উইমেন হাসপাতালের সুপার ডঃ অলকা শর্মাকে বরখাস্ত করার দাবি ওঠে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে টুইট করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘মেল হাসপাতালের সুপারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছি। উইমেন হাসপাতালের সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য দফতর। মেল হাসপাতালে যথেষ্ট শিশু চিকিত্সক-নার্স থাকেন, চিকিৎসা পরিকাঠামোও ভাল, তা সত্ত্বেও শিশুটিকে চিকিত্সার বদলে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মীর অসংবেদনশীল আচরণ মেনে নেওয়া হবে না।’