‘মিসকল’ ফাঁদে মিলবে মাছ

1280

গাজোল: ‘মিসকল’-এ মিস হবে না, ফাঁদ পাতলেই ধরা পড়বে শিকার। না, এটি কোনও মোবাইলে ‘মিসড কল’ দিয়ে প্রতারণা চক্রের বিষয় নয়। এটি একটি মাছ ধরার ফাঁদ। আর এই ‘মিসকল’ ফাঁদ এখন অন্ন যোগাচ্ছে প্রায় হাজারখানেক পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারে। গাজোল এবং বামনগোলা ব্লকের টাঙন এবং মরা টাঙন নদী সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষেরা এই সমস্ত নদী এবং খাল বিলে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। করোনা পরিস্থিতির জেরে ভিনরাজ্যে কাজ হারিয়ে এখন এলাকাতেই মাছ ধরে কোনওরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন তাঁরা। গাজোল-বামনগোলা পূর্ত সড়কের ধারে মাছ নিয়ে বসছেন তাঁরা। পথচলতি মানুষেরা তাঁদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছেন সেইসব মাছ। তবে ওজন দরে নয়, মাছের পরিমাণ দেখে বাজারের থেকে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নদিয়ালি মাছ এবং কাঁকড়া।

শনিবার শালুকা ডোবা এলাকায় গিয়ে দেখা গেল ব্রীজের উপরে মাছ এবং কাঁকড়া নিয়ে বিক্রির জন্য বসে রয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। পথচলতি মানুষেরা বাজার থেকে অনেক কম দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন মাছ এবং কাঁকড়া। বিক্রেতা কমল শিকদার, নিরঞ্জন বিশ্বাস, রতিকান্ত মণ্ডলরা জানালেন, তাঁরা অনেকেই ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন। করোনা পরিস্থিতির জেরে এখন সেই কাজ হারিয়ে বাড়িতে বসে রয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কিছু করে তো খেতে হবে, তাই নদী-নালায় মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তাঁরা। তবে জেলেদের মতো বড় জাল নেই তাঁদের কাছে। তাই ছোট ছোট জাল এবং মিসকল-এর ফাঁদ পেতে মাছ ধরছেন। সন্ধ্যেবেলা একবার জাল এবং ফাঁদ পেতে রাখেন। সকালবেলা সেখান থেকে পাওয়া মাছ বিক্রি করেন। আবার সকাল বেলা একই কায়দায় সেগুলি পেতে রাখেন। বিকেলবেলায় যা মাছ পাওয়া যায় সেগুলি আবার বিক্রি করেন। বর্তমানে এই মাছ এবং কাঁকড়া বিক্রি করে কোনওরকমে বেঁচে আছেন তাঁরা। মাছ ধরে ওই এলাকার প্রায় হাজারখানেক মানুষ দিন গুজরান করছেন। তবে নদী-নালায় মাছ ধরার ক্ষেত্রে মিসকল একেবারে অনবদ্য। এই ফাঁদে পড়লে মাছ ধরা পড়বেই।

- Advertisement -