ফের মাল ব্লকে করোনা আক্রান্তের হদিস

412

মালবাজার: মাল ব্লকের গ্রামীণ এলাকায় আরও এক ব্যক্তির করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ল। সূত্রের খবর, ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবক মাল ব্লকের ডামডিম গ্রাম পঞ্চায়েতের কুমলাই চা বাগানের শ্রমিক লাইনের বাসিন্দা।

সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ওই ব্যক্তি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। কুমলাই চা বাগানের ম্যানেজার প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, ওই ব্যক্তি বাগানের স্থায়ী শ্রমিক। তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। নিয়মানুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে, আতঙ্কের কিছু নেই। সকলকে সচেতন থাকতে বলেছি। গুজব ছড়ানোর কোনও বিষয় নেই।

- Advertisement -

বাগানের চিকিৎসক ডা: আশীষ দাস বলেন, ওই ব্যক্তি ডায়রিয়ায় ভুগছিলেন। তার অন্য কোনও উপসর্গ ছিল না। আমরা যাবতীয় বিষয়ে খোঁজখবর রাখছি। বাগান সূত্রের খবর, ওই শ্রমিকের সাম্প্রতিক কোন ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই। তিনি কীভাবে ওই শ্রমিক করোনা সংক্রমিত হলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডামডিম এলাকার বাসিন্দা তথা মাল পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ সুশীলকুমার প্রসাদ বলেন, ওই ব্যক্তিকে মালবাজারের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার তাঁর লালার নমুনা কোভিড ১৯ পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।

মাল ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, এই আক্রান্তকে নিয়ে মাল ব্লকে মোট করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫৭। অবশ্য, ইতিমধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে পর্যায়ক্রমে ঘরে ফিরেছেন। বর্তমানে মাল মহকুমা হাসপাতালে আইসোলেশন বিভাগে ৯ জন ভর্তি আছেন। ওদলাবাড়ি জেলা পরিষদ কমিউনিটি হল , চেংমারী ডাব্লুএমইউ এবং গঙ্গা দেবী কিষাণ মান্ডি কোয়ারান্টিন কেন্দ্রগুলিতে যথাক্রমে ৩৭, ৩১ এবং ৪৬ জন আছেন।

মাল পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে খবর, লকডাউনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৫৩১ জন মাল শহরে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে ১৯৫ জনের লালা রস কোভিড ১৯ পরীক্ষা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৫১ জন হোম কোয়ারান্টিনে আছেন। ৩৮০ জনের হোম কোয়ারান্টিনের মেয়াদকাল শেষ হয়েছে।

সম্প্রতি মাল শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের এক গৃহবধূর করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পুরসভা সূত্রে খবর, ওই গৃহবধূর পরিবারের সংস্পর্শে শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলোনির এক পরিবার এসেছিল। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ওই পরিবারের ৮ জনের লালার নমুনা কোভিড ১৯ পরীক্ষার জন্য মাল মহকুমা হাসপাতালের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে মাল শহর এলাকার কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না বলে অভিযোগ উঠছে। মাল পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন স্বপন সাহা বলেন, আমরা যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছি।