সংক্রমণ রুখতে নয়া ডিভাইস বিদ্যুৎকর্তার

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : করোনা পরিস্থিতিতে জমায়ে এড়াতে সরকারি তরফে অনলাইনে বিদ্যুতের বিল জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু একটা বড় অংশের মানুষই অনলাইনে বিল দিতে সড়োগড়ো নন। গ্রাহকদের প্রায় ৫০ শতাংশ সেন্টারের নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে টাকা জমা দেন। এভাবে ভিড় হওয়ার সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে।

তাই সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি লিমিটেডের সুভাষপল্লি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের স্টেশন ম্যানেজার কৌশিককুমার দাস বিশেষ ধরনের ডিভাইস তৈরি করে ফেললেন। গ্রাহকরা বিল মেটানোর জন্য যে টাকা দেবেন, সেই টাকা এই ডিভাইসের মাধ্যমে স্যানিটাইজ হয়ে তারপর কর্মীদের হাতে পৌঁছাবে। শুধু স্যানিটাইজ করা নয়, টাকা নকল কি না সেটাও বলে দেবে এই ডিভাইস। ডিভাইসের একপাশে মোবাইল চার্জিংয়ে ব্যবস্থা রয়েছে। ডিভাইস সম্পর্কে কৌশিকবাবু জানিয়েছেন, পুরো ডিভাইসটি ইউভি রশ্মি, ইভি ল্যাম্প, সার্কিট টাইমার, ৪টি রিলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ডিভাইসটির দুটি মুখ রয়েছে। একটি মুখ কর্মীর দিকে, আরেকটি গ্রাহকের দিকে থাকবে। গ্রাহক তাঁর দিকে থাকা অংশে টাকা জমা দেবে। এরপরে নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে ইউভি রশ্মির মাধ্যমে স্যানিটাইজ হয়ে টাকাটি কর্মীর দিকে চলে যাবে। ডিভাইসে ইভি ল্যাম্প থাকায় নোট নকল কি না পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া কাজের ফাঁকে মোবাইল চার্জের সমস্যা হলে তারও ব্যবস্থা থাকছে।

- Advertisement -

কলকাতায় জন্ম হলেও বর্তমানে কাজের সূত্রে হাকিমপাড়ার বাসিন্দা কৌশিককুমার দাস। ছোটবেলা থেকেই ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস তৈরির উপর তাঁর বিশেষ ঝোঁক রয়েছে। একসময়ে এই ঝোঁকই তাঁর ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে। ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার সময়ে বিশেষ বিষয় হিসেবে ডিজিটাল-ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে পড়াশোনা। ২০ বছর আগে চাকরিতে যোগ দেন। কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস নিয়ে নাড়াচাড়া ক্রমেই অবসরের সঙ্গী হয়ে ওঠে। করোনা তাঁর ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস নাড়াচাড়ার নেশা যেন আরও বাড়িয়ে দেয়। কৌশিকবাবু জানান, সরকারি নির্দেশমতো দূরত্ব বজায় রেখে বিল দেখার জন্য টেলিস্কোপ এবং পরবর্তীতে ভিড় এলাকায় নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা নিয়ে সচেতন করার জন্য পার্সোনাল ডিসট্যান্স মনিটরিং ডিভাইস তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আরও বড় কিছু করার পরিকল্পনা ছিল। সেন্টারের বিলিং কাউন্টারের সামনে ভিড় এবং সেখান থেকে যাতে কোনওভাবেই কর্মীর মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায় সেজন্য তিনি বিশেষ ডিভাইস তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনও জায়গাতেই কৌশিকবাবুর তৈরি ডিভাইস কার্যকর হতে পারে। কৌশিকবাবু বলেন, কোনও সংস্থা হাত বাড়ালে আমি ডিভাইসটি আরও ডেভেলপ করতে পারব। তবে অনলাইন বিলিং সম্পর্কে গ্রাহকদের সরকারি নির্দেশ মানার অনুরোধ করব। কারণ, বিলিং দেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। তাছাড়া অনলাইন বিলিংয়ে অ্যাডিশনাল ১ শতাংশ ছাড় থাকছে।