অসময়ে সবজি চাষে নয়া দিশা উত্তরবঙ্গে

163

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : পলিহাউসে অসময়ে শাকসবজি চাষ ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উত্তরবঙ্গে। পালং, রাই, সর্ষেশাক থেকে শুরু করে ধনেপাতা, লাল-হলুদ বা সাদা ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, বিনস, টমেটোর মতো সবজির চাষ হচ্ছে পলিহাউসে। সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এই শাকসবজি শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, দেদারে বিকোচ্ছে নেপাল-ভুটানের বাজারেও। চাষিরাও আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন।

রাজ্য কৃষি দপ্তরের জলপাইগুড়ি সদর মহকুমার অধিকর্তা মেহফুজ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, পলিহাউসে কিছু নিয়ম মেনে শাকসবজি চাষে সবচেয়ে বড় সুবিধা, ভরা বর্ষাতেও ভালো ফলন পাওয়া যায়। উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলায় সমতল সহ পাহাড়েও একাধিক এলাকায় পলিহাউসে শাকসবজির চাষ সাড়া ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, কৃষি দপ্তর থেকে কৃষকদের যাবতীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগপোকার দমন থেকে শুরু করে পলিহাউসের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখার কৌশল- সমস্ত কিছুই তাঁদের বলে দেওয়া হচ্ছে। ভরা বর্ষায় আবহাওয়ার প্রতিকূলতা থাকলেও পলিহাউসে শাকসবজি চাষ শুধু যে সম্ভব তা নয়, অর্থকরীও বটে। বিভিন্ন এলাকায় এখন এটা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

- Advertisement -

কৃষিবিজ্ঞানীরা বলছেন, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া পলিহাউসের চাষের পক্ষে বেশ উপযুক্ত। এতে পরিকাঠামো নির্মাণের খরচও তেমন কিছু আহামরি নয়। বাঁশের কাঠামো তৈরি করে তাতে ১৫০-৩০০ মাইক্রন ঘনত্বের প্লাস্টিক দিয়ে পলিহাউস তৈরি করা যায় সহজেই। শীতের মরশুম আসার আগেই অন্তত ৪-৫ বার ফসল বিক্রি করা সম্ভব বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে কৃষি আধিকারিকরা চাষিদের চাষের জন্য উপযুক্ত মাটি তৈরির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়ার কথা বোঝাচ্ছেন।

পলিহাউসে সবজি চাষে স্বল্প পরিমাণ জমিতে তাকলাগানো ফসল ফলানোর ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় জোগানের স্বল্পতা থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বেশি দাম পাওয়া যায় এতে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে এই পদ্ধতিতে চাষ করা পালংশাক ৫০-৭০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মুঠো রাইশাকের দাম মিলছে ৮-১০ টাকার মধ্যে। মাত্র দু-একগুচ্ছ ধনেপাতার আঁটির দাম ১০ টাকা।

কেউ এক কাঠা আবার কেউ দুই কাঠা জমিতে এই পদ্ধতিতে চাষবাস করছেন। দার্জিলিংয়ে সমতল এলাকা যেমন, ফাঁসিদেওয়া, পাহাড়ের রিমবিক, আপার ইংচেং, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ও সদর ব্লকের একাধিক জায়গায় পলিহাউসে চাষ করা সবজি বিক্রি করে করোনা পরিস্থিতিতেও চাষিরা সামান্য হলেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ফাঁসিদেওয়ার রুইধাসা গ্রামের হেমন্ত রায় নামে এক চাষির কথায়, প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর প্লট তৈরি করে বানানো পলিহাউসে নানা ধরনের শাকসবজির চাষ করছি। এলাকার আরও কিছু কৃষকও এত শামিল হয়েছেন। অসময়ে হলেও স্বাদের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনও বদল হচ্ছে না। ফলে বাজারে চাহিদা রয়েছে।

পলিহাউসের শাকপাতা ৩০-৩৫ দিন হলেই বাজারজাত করা যায় বলে চাষি এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকাগুলিতে পলিহাউসের চাষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আদর্শ। মাটি তৈরির সময় জৈব সারের সঠিক প্রযোগের ওপরই ফলনের ম্যাজিক লুকিয়ে রয়েছে।