রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : মাটিগাড়ার পাকিস্তানবস্তি থেকে শিলিগুড়ির ফুলেশ্বরী। মাদকের ঘাঁটি এবং মাদক পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে এই এলাকা। প্রতিদিনই বাইরের রাজ্য এবং জেলা থেকে মাদক ঢুকছে শহরে। পাকিস্তানবস্তি হল এই মাদকের মূল ঘাঁটি। সেখান থেকে মাদক যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। আর এই মাদকের ফাঁদে পড়ে একদিকে অন্ধকার ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াচ্ছে ছাত্র-যুবরা। অন্যদিকে, এর ফলে শহরে চুরি, ছিনতাই, খুনের ঘটনা বাড়ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শহরের বেশির ভাগ ছিনতাই, চুরির ঘটনায় জড়িতরাই মাদকাসক্ত। এদের অধিকাংশ নাবালক হওয়ায় আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে।

নতুন নেশা

শিলিগুড়িতে এখন রমরমিয়ে চলছে নতুন নেশা লামা। এই লামার খপ্পরে পড়ে অসামাজিক পথে হাঁটছে শিলিগুড়ির যুবসমাজ। ব্রাউন সুগার গোত্রের হলেও লামা তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং সহজলভ্য। ৩০০ টাকা দিলে সঙ্গে সঙ্গে একবেলা নেশা করার মতো লামা মিলবে শিলিগুড়িতে। মূলত মালদা, কিশনগঞ্জ থেকে লামা আসছে শিলিগুড়ির পাকিস্তানবস্তিতে। সেখান থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে যাচ্ছে এই মাদক।

কী এই লামা

ব্রাউন সুগারের মতো দেখতে লামা এক ধরনের নেশার পাউডার। রাংতা কিংবা চকোলেটের মোড়কের মধ্যে লামা রেখে নীচের থেকে আগুন দেওয়া হয়। এরপর যে ধোঁয়া হয় তা শুঁকেই নেশা করা হয়।

কীভাবে পাওয়া যায়

গ্রাম হিসেবে এই মাদক কিনতে হয়। একবারে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামের লামা পাওয়া যাবে।

কোথায় পাওয়া যায়

পাকিস্তানবস্তি, ফুলেশ্বরী, দেবাশিস কলোনি, পাসোয়ানবস্তি, দাস কলোনি, বিভিন্ন এডুকেশন হাবের কাছেও এখন মিলছে এই মাদক।

ক্রেতা কারা

কিশোর, কলেজ ছাত্র-যুবদের টার্গেট করেই এই নেশার দ্রব্যের ব্যবসা চলছে বলে পুলিশি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। কলেজ ছাত্র কিংবা যুবসমাজকে টার্গেট করলে সহজেই মাদক বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে খবর।

পুলিশের পর্যবেক্ষণ

লামার খপ্পরে পড়ে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে নাবালক ও যুবসমাজ। যখনই হাতে টাকা থাকছে না তখনই ছিনতাই, ছোটোখাটো চুরির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে তারা। গত কয়েকদিনে শিলিগুড়ির বিভিন্ন থানায় চুরি কিংবা ছিনতাইয়ে ঘটনায় ধৃতদের প্রায় ৯০ শতাংশই মাদকাসক্ত। শুক্রবার শিলিগুড়িতে যে খুন হয় তার পেছনেও রয়েছে লামার ভূমিকা।

পুলিশের অভিজ্ঞতা

কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেশাসক্তদের কিংবা বিক্রেতাদের থানায় ধরে আনলে তাদের ছাড়াতে চলে আসেন কিছু নেতা। ফলে পুলিশ চাইলেই যে সহজে শহরে লামার কারবার বন্ধ করা সম্ভব, তা নয়।

পুলিশ বলছে

ডেপুটি কমিশনার (জোন-২) অতুল বিশ্বনাথন বলেন, পাকিস্তানবস্তিতে আমাদের লাগাতার অভিযান চলে। পুজোর আগেও প্রচুর যুবককে একসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আগামীতেও আমাদের অভিযান চলবে।