নেপাল, বাংলাদেশ হয়ে এদেশে ঢুকছে মাদক খাঠ

1061

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : বাংলাদেশ ও নেপাল হয়ে ভারতে ঢুকছে খাঠ নামে একপ্রকার আফ্রিকান মাদক। গ্রিন টির মত দেখতে হওয়ায় খুব সহজেই নানা ব্র‌্যান্ডের মোড়কে এই মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে নেশাচক্রের পান্ডারা। টিউলিপ গাছের পাতার মতো দেখতে এই পাতা কুচিকুচি করে কেটে আধা শুকনো অবস্থায় প্রতিবেশী দুই দেশ থেকে এদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। চোরাপথ ধরে এদেশে ঢোকার পর ছোটো-বড়ো প্যাকেট করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এই মাদক পাতা।

নিউ সাইকোঅ্যাক্টিভ সাবস্ট্যান্সেস বা এনপিএস প্রজাতির এই মাদক মূলত সোমালিয়া, ইথিয়োপিয়া, কেনিয়ার মতো পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলিতে চাষ হয়। আমেরিকা ও ইউরোপ মহাদেশে খাঠ নিয়ে কড়াকড়ি থাকায় বাংলাদেশ ও নেপাল হয়ে ভারত, চিন, মিয়ানমারের মতো দেশে নিয়ে আসা হয় এই মাদক। মাদক চোরাকারবারিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পূর্ব ভারতের চোরাই বাজারে দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এই মাদক। কুচি করে কাটা এই পাতা খালি মুখে চিবিয়ে যেমন খাওয়া য়ায় তেমনই চায়ে মতো জলে সেদ্ধ করে সেই জল পান করা হয়। চিবিয়ে বা জলে সেদ্ধ করে পান করার পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরে কোনো ক্লান্তি বা ঘুমের লেশ থাকে না। সেইসঙ্গে যে কোনো কাজে দারুণ উদ্যম দেয় এই খাঠ পাতা। শুধু নেশাদ্রব্য হিসেবেই নয়, আজকাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়া হরেকরকম উত্তেজক পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকসের মধ্যেও কমবেশি এই খাঠ পাতা ব্যবহার করছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসাযী। তবে, প্রাথমিকভাবে উত্তেজনা দিলেও খুব তাড়াতাড়ি নেশায় পরিণত হয় এই মাদক।

- Advertisement -

স্নাযুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দীপাঞ্জন সান্যাল বলেন, আমাদের দেশে এখনও সেভাবে এর বিপদ সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল নন। যদিও বিদেশের জার্নাল এবং সেমিনারগুলিতে প্রায়ই এর উল্লেখ থাকে। মূলত ক্যাথিন ও ক্যাথিনন থাকায় সামযিকভাবে দারুণ উত্তেজনা দিলেও অল্প কিছুদিন নিয়মিত এই মাদক গ্রহণ করলে অনিদ্রা, ক্ষুধামান্দ্য তারপর গভীর হতাশা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়বে। সেইসঙ্গে শরীরের হরমোন সৃষ্টিকারী গ্রন্থিগুলি এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিরও মারাত্মক ক্ষতি করে এই খাঠ পাতা।

উত্তরবঙ্গে এই মাদকের আনাগোনা শুরু হলেও নারকোটিক্স বিভাগ সেভাবে সক্রিয় না থাকায় এই আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান নিয়ে কারও কাছেই সেভাবে তথ্য নেই। রাজ্য আবগারি বিভাগের কমিশনার সুরজিত্ সরকার বলেন, আমাদের কাছে এখনও এই মাদক বা তার চোরাকারবার নিয়ে কোনো তথ্য নেই। তবে আমরা প্রতিনিয়ত মাদক বিক্রির বাজারের ওপর নজর রাখি, ফলে এমন কোনো চক্র সক্রিয় হয়ে উঠলে অবশ্যই খুব তাড়াতাড়ি আমাদের জালে আসবে। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, নতুন নতুন মাদকদ্রব্য চেনা এবং তার বিরুদ্ধে অভিয়ানের জন্য সঠিক ট্রেনিংয়ে অভাব রয়েছে। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গাঁজা, হেরোইন বা ব্রাউন সুগার আটকায় পুলিশ। এই ক্ষেত্রেও আমরা নজর রাখব এবং চক্রের পান্ডারা ধরা পড়লে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।