নয়া প্রজন্মের অসুরদের কাছে ব্রাত্য নন দেবী দুর্গা

562

অসুর জনজাতির প্রবীণরা এখনও দুর্গার মুখ দেখতে নারাজ

আলিপুরদুয়ার: তাঁরা নাকি মহিষাসুরের বংশধর। তাই সারা বাংলা পুজোর সময় আনন্দে মেতে উঠলেও, তাঁদের কাছে পুজোর চারদিন ছিল শোকের। তবে সময় পাল্টাচ্ছে। তাই পুরনো রীতিনীতি ধরে থাকতে নারাজ অসুর জনজাতির বর্তমান প্রজন্ম। এখন তাই দুর্গাপুজো দেখতে বেরোচ্ছে অসুর জনগোষ্ঠীর নতুন প্রজন্ম। তবে প্রবীণরা এখনও দুর্গার মুখ দেখতে নারাজ।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন মাঝেরডাবরি চা বাগানের অসুর লাইনে ওই জনগোষ্ঠীর লোকজন বসবাস করেন। হিন্দু হলেও এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এতদিন দুর্গাপুজোয় অংশগ্রহণ করেননি। তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁরা মহিষাসুর-এর বংশধর। পুরাণ মতে, মা দুর্গা মহিষাসুর বধ করেছিলেন। তাই অন্য পুজোয় অংশ নিলেও দুর্গাপুজোয় তাঁরা কোনোদিন অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি প্রতিমা দর্শনও করেন না। কালীপুজোয় তাঁরা আনন্দে মেতে ওঠেন। তাঁদের প্রত্যেকের ঘরে কালীপুজো হয়। কিন্তু দুর্গাপুজো মানেই শোকপালন। শহর লাগোয়া মাঝেরডাবরি চা বাগানে ৫১ পরিবার মিলে এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ২০০ মানুষের বসবাস। একশো বছরের উপর তাঁরা এখানে বসবাস করছেন। অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা চা বাগানে কাজ করেন। অন্যরা দিনমজুরি করেন। তাঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। অসুর লাইনের প্রবীণ বাসিন্দা জীতেন অসুর বলেন, আমরা হিন্দু হলেও দুর্গাপুজোয় অংশ নিই না। দীর্ঘদিন ধরেই এই রীতি চলে এসেছে। তবে কালীপুজো ও দোলে আমরা বেশি মজা করি। এখনও সেই রীতি ধরেই আমরা চলছি। তবে কমবয়সি ছেলেমেয়েরা সেই রীতির তোয়াক্কা করছে না। তারা দুর্গাপুজোর সময় বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু প্রবীণ সদস্যরা বাড়িতেই থাকেন। আরেক বাসিন্দা মটু অসুর বলেন, দুর্গাপুজোয় আমরা প্রতিমা দেখতে না গেলেও ছোটো ছেলেমেয়েরা যায়। তারা আনন্দ করে। তাদের ধরে রাখা যায় না। তবে কালীপুজোয সকলে মিলে বেশি আনন্দ করি। পুজোর বোনাস দিয়ে কালীপুজোর সময় সকলে নতুন জামাকাপড় কিনি। নবীন প্রজন্মের  অসুরদের বক্তব্য, দুর্গাপুজোয় সবাই আনন্দ করে। একসঙ্গে মিলে ঠাকুর দেখতে যায়। আমরা কেন ঘরে বসে থাকব?