অভিরূপ দে  ময়নাগুড়ি : মূর্তির দুপাশ দিয়ে ঢেউ খেলে নামছে কুচকুচে কালো চুল। কোমর ছাড়িয়ে তা গোড়ালি ছুঁইছুঁই। দুর্গাপ্রতিমার পরিচিত এই কেশবিন্যাসে বদল চাইছেন ময়নাগুড়ির পুজো উদ্যোক্তারা। লম্বা চুলের বদলে এবার দেবী দুর্গার চুলেও আধুনিকতার ছোঁয়া দেখা যাবে। শুধু দুর্গাই নন, তাঁর সন্তানসন্ততিদের ক্ষেত্রেও বাজার চলতি চুলের ছাঁটের আবদার করছেন পুজো উদ্যোক্তারা। বাদ যাবেন না অসুরও। অসুরের চুলের স্টাইলের ক্ষেত্রেও যত্নবান হওয়ার জন্য মৃৎশিল্পীদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুজো কমিটির কাছ থেকে অনুরোধ পেয়ে দুর্গার চুলের আধুনিক ছাঁটের খোঁজে মৃৎশিল্পীরা ছুটছেন বিউটিপার্লারে।

দশভুজার মাথার চুল থেকে শুরু করে অসুরের মাথার বাবরি, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতীর কেশের জেল্লার পেছনে রয়েছে পাটের কারিকুরি। কালো রং ভরতি গামলায় কয়েক ঘণ্টা কাঁচা পাট চুবিয়ে রাখার পর তা তুলে নিয়ে শুকোতে দেওয়া হয়। কালো চুলের বদলে লালচে বাদামির শেড দিয়ে তার ঔজ্জ্বল্য বাড়ানো হবে। মৃৎশিল্পীদের বক্তব্য, তাঁরা চিরাচরিতভাবে এতদিন প্রতিমা তৈরি করছেন। তাই প্রতিমার চুল নিয়ে আলাদা করে ভাবার কিছু ছিল না। কিন্তু এখন পুজোর সময় সেরা প্যান্ডেল, সেরা আলোকসজ্জার পাশাপাশি প্রতিমা নিয়ে নানা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তাই প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার জন্য প্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র খামতি রাখতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা।

ময়নাগুড়ির বিউটিশিয়ান নিবেদিতা রায়বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে মাথার একদিকে খোঁপা করে নানা ডিজাইন করা হচ্ছে। তাছাড়া স্ট্রেট হেয়ারও বাজারে চলছে। এবার পুজোয় দুর্গার চুলেও এরকম ডিজাইন দেখা যাবে। অন্যদিকে কার্তিক এবং অসুরের চুলের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ক্রিকেট ও ফুটবল খেলোয়াড়দের চুলের আদল নকল করা হবে। ময়নাগুড়ির মৃৎশিল্পী সঞ্জীব রায়, দিগ্বিজয় পাল প্রমুখ জানান, পাট দিয়ে মূর্তির চুল বানানো হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাটি দিয়ে চুল তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমার আদল, রং, বস্ত্রের পাশাপাশি এখন উদ্যোক্তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে চুলের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। ময়নাগুড়ির বিগ বাজেটের পুজো উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, গোটা প্রতিমাই একটি প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে চুলের ছাঁট পুরোনো হলে প্রতিমা মানানসই হবে না। তাই সময়ে সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেবীর চুলের ছাঁটও আধুনিক হচ্ছে।