শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুঁটিনাটি জানতে কেন্দ্রের নয়া পদ্ধতি চালু

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : কেন্দ্রীয় সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি বিদ্যালয় সহ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক তথ্য ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবেই রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করতে হবে। ৫৯ পাতার ফর্মে রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সামগ্রিক চালচিত্র সম্পর্কে প্রশ্নভিত্তিক নির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে।

১৫ এবং ১৬ জানুয়ারি সমগ্র শিক্ষা অভিযানের রাজ্যের প্রকল্প আধিকারিক শুভাঞ্জন দাস ২৩টি জেলার জেলাশাসক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা প্রোজেক্ট ডিরেক্টরদের সঙ্গে ভিডিযো কনফারেন্স করবেন। এই কনফারেন্সে তথ্য প্রেরণের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেলাগুলিকে অবহিত করা হবে। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় সমগ্র শিক্ষা অভিযান দপ্তরগুলিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে ফর্ম পাঠানো হয়েছে। জেলাস্তরে বৈঠকের পর ব্লকস্তরে এই বিষয়ে বৈঠক করা হবে। তথ্য সংগ্রহের তালিকায় হাইস্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র, শিশুশিক্ষাকেন্দ্র, পুরসভা পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনশিক্ষা দপ্তর পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জেলায় জেলায় থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডাইস ফর্মে বিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের তালিকা যেমন চাওয়া হয়েছে, তেমনি কোন শিক্ষক কোন বিষয় পড়ান তাও জানাতে হবে। মিড-ডে মিল পরিসেবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে ডাইসের ফর্মের মাধ্যমে জানাতে হবে।

- Advertisement -

বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোর সার্বিক খতিয়ান মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রককে অবগত করতে হবে। বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরিস্রুত পানীয় জল পরিসেবা রয়েছে কিনা, শৌচাগার রয়েছে কিনা তা জানাতে হবে প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। বছরভিত্তিক ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ফর্মে লিপিবদ্ধ করতে হবে। গ্রন্থাগারগুলির চিত্র সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাঠাতে হবে মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রককে। ৫৯ পাতার এই প্রশ্নমালার উত্তর থেকে বিদ্যালয়ে সার্বিক চিত্র পাওয়া যাবে। সমগ্র শিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে জেলাস্তরে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দ করে। ৫ মার্চের মধ্যে সমগ্র তথ্য হাতে পাওয়ার পর আগামী আর্থিক বছরের জেলাপিছু বাজেট বরাদ্দ করবে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের জাতীয় কর্তৃপক্ষ। দিল্লি থেকে জেলায় জেলায় আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ জানানো হবে।

জলপাইগুড়ি জেলা সর্বশিক্ষা অভিয়ানের প্রকল্প আধিকারিক মানবেন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, জেলায় ২৪৫টি হাইস্কুল, ১২০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৫ মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র, ৫৮৯টি শিশুশিক্ষাকেন্দ্র, পুরসভা পরিচালিত ৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৫০টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২টি জনশিক্ষা দপ্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।