হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করেছে আমেরিকা। আর স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করেছে হুয়াওয়ে। তাঁদের লক্ষ্য, অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের বাজারে ভাগ বসানো এবং ইউরোপের বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ানো। এই পরিকল্পনা সফল করতে প্যারিসে দুটো নতুন মডেলের স্মার্টফোন বাজারে আনার কথা ঘোষণা করেছে হুয়াওয়ে।

একটির নাম পি-৩০, অন্যটি পি-৩০ প্রো। এপ্রিল থেকে এই দুই মডেলের বিক্রি শুরু হবে। আপাতত ব্রিটেনের বাজারে দাম ঠিক হয়েছে ৬৯৯ পাউনড। অ্যানড্রয়েড ফোন পি-৩০ প্রো-তে যেসব ক্যামেরা থাকবে তার একটির সঙ্গে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সংযোগ থাকছে। এর সাহায্যে এক্সপোজারের মান উন্নত করা সম্ভব হবে। সংস্থার দাবি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে তারা স্মার্টফোন ফোটোগ্রাফির নিয়মকানুন নতুন করে লিখতে চলেছেন। হুয়াওয়ের নতুন মডেলের সুপারজুম ক্যামেরার প্রশংসা করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও। কিন্তু, হুয়াওয়ের কর্তাদের চিন্তা, শুধু উন্নতমানের ক্যামেরাই কি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারে, নাকি তার জন্য স্মার্টফোনে আরও আধুনিক ফিচার থাকা জরুরি?

পি-৩০ প্রো মডেলের অনেক বৈশিষ্ট্য। ৬.৪ ইঞ্চি ওএলইডি স্ক্রিন, ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা, ১২৮ জিবি অথবা ৫১২ জিবি স্টোরেজ। দুটি মডেলেই হাইসিলিকন কিরিন ৯৮০ প্রসেসর থাকছে। দুটি মডেলই ৫জি পরিসেবার জন্য উপযুক্ত। এই দুই মডেলে স্ক্রিনের নীচের অংশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারও থাকছে। এরই পাশাপাশি হুয়াওয়ে স্মার্ট সানগ্লাস বাজারে এনেছে। এই সানগ্লাসকে কল রিসিভ করার জন্য ব্লুটুথ সেট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

এমন একটি সময়ে হুয়াওয়ে স্মার্টফোনের নতুন মডেল বাজারে এনেছে যখন তাদের ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বিভিন্ন উপকরণকে নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক মনে করা হচ্ছে। হুয়াওয়ের কাছ থেকে ৫জি পরিসেবার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না কিনতে দেশীয় কোম্পানির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় টেলিকম অপারেটর তাদের নেটওয়ার্ক থেকে হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিন সরকারের সঙ্গে হুয়াওয়ের সম্পর্ক নিয়েই আশঙ্কার মেঘ। সমালোচকরা এই প্রসঙ্গে চিনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ল-এর কথা উল্লেখ করছেন।