নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : মাদারিহাট থেকে ২১ কিলোমিটার দূরত্বে ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত টোটোপাড়ার কাংদুং পিকনিক স্পট। পাহাড়ের দেবতার নামেই এই পিকনিক স্পটটি কাংদুং নামে নামকরণ করা হয়। প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে এই জায়গাটিতে। নয়া এই পিকনিক ডেস্টিনেশনে নতুন বছরে ১৫ দিনে ৪০০ পিকনিক পার্টি এসেছে। স্পটের একদিকে নেমে এসেছে পাহাড়ি ঝরনা এবং ভুটান পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য। অপরদিকে রয়েছে ভুটানের কমলালেবুর বাগান। রয়েছে খনিজ উত্তোলনের মাইনিং সেন্টার। ৮ বছর ধরে এই পিকনিক স্পটটি চালাচ্ছেন টোটোপাড়ার কয়েকজন শিক্ষিত যুবক। পিকনিক পার্টিদের জন্য অস্থায়ী রেস্ট হাউসও বানিয়েছেন তাঁরা। প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচুর পিকনিক পার্টি এই স্পটে পিকনিক করতে ভিড় জমায়।

পিকনিক স্পটটি চালানোর সদস্যদের মধ্যে অন্যতম বকুল টোটো জানান, কয়েকজন যুবক মিলে ভুটান সীমান্তবর্তী জায়গায় আট বছর আগে তাঁরা পিকনিক স্পটটি তৈরি করেন। পিকনিক স্পটে মাত্র দুটি শেড তৈরি করতে পেরেছেন। টাকার অভাবে আর শেড তৈরি করতে পারছেন না। সরকারিভাবে এখানে যদি শেড এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয় তবে এই পিকনিক স্পট আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে ৩০টি পিকনিক পার্টি এখানে এসেছে। জানুয়ারি মাসে দুই দিনে এসেছে ৪০০টি পিকনিক পার্টি। স্পটটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য গাড়িপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এই পিকনিক স্পটের পাশেই রয়েছে সশস্ত্র সীমা বলের ক্যাম্প। নিরাপত্তার ব্যাপারে তাদের কাছেও যথেষ্ট সহযোগিতা পাওয়া য়ায়। ফলে এই পিকনিক স্পটটি নিরাপত্তার দিক থেকেও যথেষ্ট সুরক্ষিত। পিকনিক পার্টির ১২ জনের জন্য এখানে একটি অস্থায়ী রেস্ট হাউস বানানো হয়েছে। সেখানে তাঁরা বিশ্রাম নিতে পারবেন।

বেদান্ত টোটো নামে অপর যুবক বলেন, বছরের দুতিন মাস এই পিকনিক স্পটে আসা পিকনিক পার্টির থেকে ভালো রোজগার হয়। এখানে সরকারিভাবে কিছু শেড এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হলে আরও অনেক বেশি পিকনিক পার্টি আসবে। এই পিকনিক স্পটে আসার পর পিকনিক পার্টির সদস্যরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দারুণভাবে উপভোগ করেন। যাঁরা এলাকাটি ঘুরে দেখতে চান তাঁদের ঘোরানোর জন্য গাইডও রয়েছেন। তবে পানীয় জলের বন্দোবস্ত না থাকায় পিকনিক পার্টিদের পানীয় জল সঙ্গে করে আনতে হচ্ছে।

টোটোপাড়া বল্লালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আশা এস বোমজান বলেন, আমাদের নিজস্ব তহবিলের অবস্থা খুবই খারাপ। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন দিতেই সমস্যা হচ্ছে। পিকনিক স্পটে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। যদি সম্ভব হয় তবে স্পটটিতে শেড তৈরি এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।