জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি, ২৪ এপ্রিলঃ জলপাইগুড়ি শহরের সৌন্দর্যায়নে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর করলার বাঁধের উপর পাকা রাস্তা তৈরি করলেও এতে উলটে ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেচ দপ্তরের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই করলার উপর রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। দপ্তরের আশঙ্কা, বাঁধের উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করায় বর্ষাকালে জলপাইগুড়ির বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের জলপাইগুড়ি রেঞ্জের স্পেশাল আইজি ও জেলাশাসকের দপ্তরের পাশাপাশি সার্কিট হাউস চত্বরে জল জমবে।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর অবশ্য অভিযোগ মানতে চায়নি। তাদের দাবি, বাসিন্দাদের সুবিধায় রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। দপ্তরের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উত্তম চৌধুরি বলেন, এক বছর ধরে রাস্তাটি তৈরির কাজ চলল। অথচ সেই সময় সেচ দপ্তর এই রাস্তাটি নিয়ে কোনো আশঙ্কার কথা বলল না। এখন এই অভিযোগ তোলার কোনো মানেই হয় না। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি পুরসভার বিরুদ্ধে অবৈজ্ঞানিকভাবে নিকাশি নর্দমা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সেচ দপ্তরের আশঙ্কা, যেভাবে এই নর্দমাটি তৈরি করা হয়েছে তাতে বৃষ্টি হলে পুলিশ সুপার, স্পেশাল আইজি ও পূর্ত দপ্তরের বাংলোর রুটের রাস্তায় জল জমে সমস্যা হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো অবশ্য বলেন, দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জলপাইগুড়ি শহরের বুক চিরে করলা বয়ে গিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে করলায় ব্যাপক জলস্ফীতি হয়। এর জেরে প্রতি বছরই বিভাগীয় কমিশনার, জলপাইগুড়ি রেঞ্জের পুলিশের স্পেশাল আইজি ও জেলাশাসকের দপ্তরের পাশাপাশি সার্কিট হাউস চত্বরে জল জমে যায়। ১০০ মিমির বেশি বৃষ্টি হলে সাধারণত এই এলাকায় জল জমে। সেচ দপ্তর এই জল পাম্প চালিয়ে তুলে তা ফের করলাতেই ফেলে। এই কাজের জন্য দপ্তর এখানে দুটি ড্রেনেজ পাম্প ব্যবহার করে। একটির পাইপলাইন এখানে মাটির তলা দিয়ে গিয়েছে। অন্য পাম্পটির পাইপলাইন বাঁধের উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সৌন্দর্যকরণ কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর করলার বাঁধের উপর দিয়ে পাকা রাস্তা তৈরি করেছে। সাধারণের ব্যবহারের জন্য মাস চারেক আগে রাস্তাটি চালুও করে দেওয়া হয়। বর্ষা আসন্ন। অভিযোগ, এবারে জল জমলে এই রাস্তার উপর দিয়ে পাম্পের লাইন নিয়ে গিয়ে এলাকা থেকে জমা জল সরানো নিয়ে খুবই সমস্যা হবে।

সেচ দপ্তরের পদস্থ এক আধিকারিক বলেন, বাঁধের উপর রাস্তা তৈরি করলেও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর এ বিষযে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। ড্রেনেজ পাম্পের রুটের উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকদের দপ্তর চত্বরের পাশাপাশি সার্কিট হাউস চত্বরে জল জমেবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে রাস্তাটির একাংশ ভেঙে ড্রেনেজ পাম্প নিয়ে যেতে হবে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে উপরমহলকে অবগত করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শহরের মহাত্মা গান্ধি রোড থেকে কিংসাহেবের ঘাট পর্যন্ত রাস্তার ধারে পুরসভা নিকাশি নর্দমা তৈরি করাতেও সেচ দপ্তর ভোগান্তির আশঙ্কা করছে। দপ্তরের ওই আধিকারিকের কথায়, পুরসভা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এই নর্দমাটি তৈরি করেছে। এর জেরে শহরে ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।