ত্রিবেণীতে খুব শীঘ্রই চালু হবে সারি হাসপাতাল, ফাঁসিদেওয়া এসে জানালেন জেলাশাসক

491

ফাঁসিদেওয়া, ১৪ জুনঃ দার্জিলিং জেলার ত্রিবেণীতে নতুন সারি (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইউনিট) হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেটি চালুও করা হবে। রবিবার ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে এসে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক এস পুন্নমবলম একথা জানিয়েছেন। কাওয়াখালিতে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার একমাত্র সারি হাসপাতালকে সম্প্রতি কোভিড হাসপাতালে রুপান্তরিত করা হয়েছে। জেলায় এখন ২টি কোভিড হাসপাতাল থাকলেও, ১টিও সারি হাসপাতাল নেই৷ এখন সারি রোগিদের ২ ভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইএলআই (ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ইলনেস) রোগিদের ব্লক কিংবা মহকুমা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানেই রোগিদের থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে৷ এছাড়াও, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেসপিরেটরি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (রিকু) এ চিকিৎসা করা হচ্ছে। তবে, খুব শীঘ্রই তাকদা ব্লকের ত্রিবেণীতে সারি হাসপাতাল চালু হবে। সেখানেই সারি রোগিদের চিকিৎসা চলবে বলে এদিন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক জানিয়েছেন। কম পরিমাণে সোয়াব টেস্টের অভিযোগ নিয়ে এস পুন্নমবলম জানান, স্বাস্থ্য ভবন এবং আইসিএমআর-র নির্দেশিকা অনুযায়ী সোয়াব টেস্ট করা হচ্ছে।

শনিবার ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালের ৫৫ বছর বয়সি প্যারা মেডিকেল অপথ্যামলিক অ্যাসিস্ট্যান্ট তথা মাটিগাড়া ব্লকের মাটিগাড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলমজোতের বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এই প্রথম ফ্রন্ট লাইন স্বাস্থ্য কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, তিনি বেশ কিছুদিন থেকে লিম্বুটারি আইটিআই কলেজের কোয়ারান্টিনে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে প্রথমে শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানে হয়৷ পরে তাঁকে কাওয়াখালির (ভরতির সময় সেটি সারি হাসপাতাল ছিল) কোভিড হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সোয়াব (লালারস) টেষ্টের প্রথম রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। তবে, দ্বিতীয় রিপোর্টে পজিটিভ আসে৷ এরপর শনিবার বিকেলে কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতালেই তিনি মারা যান। ওই স্বাস্থ্য কর্মীর মৃত্যুতে এদিন জেলাশাসক এস পুন্নমবলমের উপস্থিতিতে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে শোক পালন করা হয়। এদিন দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য, দার্জিলিংয়ের ডেপুটি সিএমওএইচ ২ তুলসি প্রামানিক, ফাঁসিদেওয়া ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অরুণাভ দাস, ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার, ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত সহ অন্যন্য বিশিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে স্বাস্থ্য কর্মীর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য কর্মীর মৃত্যুতে জেলাশাসক দুঃখপ্রকাশ করে জানান, ৩ মাস ধরে করোনা পরিস্থিতি চলছে। এই প্রথম ১ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হল। করোনা যোদ্ধাদের ১ জন সদস্য চলে গিয়েছেন৷ আগামীতে প্রথমসারির স্বাস্থ্য কর্মীদের আরও সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া এসওপি প্রত্যেককে পালন করতে হবে। এনিয়ে আগামীতে স্বাস্থ্য কর্মীদের রিফ্রেশার ট্রেনিংও দেওয়া হবে রোগিকে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সকলকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যদিকে, লকডাউন খুলে যাওয়ার পর এখনও অনেক মানুষ ইচ্ছে করে করোনা সতর্কতা মানছেন না। মানুষকে বোঝানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আগামীতে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে তিনি জানান। এদিকে, কোভিড ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী জেলায় শেলটার হোম, কোয়ারান্টিন সেন্টার, কোভিড হাসপাতাল চলছে। তবে, নতুন কোনও কোভিড হাসপাতাল চালু হবে কিনা তা নিয়ে জেলাশাসক কিছু বলেননি।