ডাক্তারবাবু এসপি, ভরসা বাড়ছে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশে

959

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি দেশজুড়ে সবচেয়ে ঝুঁকির কাজ করতে হচ্ছে পুলিশকর্মীদের। সারাদেশের মতো এ রাজ্যেও কয়েক হাজার পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী সংক্রামিত হয়েছেন। জলপাইগুড়ি জেলাতেও করোনা সংক্রামিত হয়েছেন একজন ডেপুটি পুলিশ সুপার সহ বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী। তাঁদের থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে তাঁদের পরিবারেও। থানাস্তরে পুলিশকর্মীরা সহকর্মীদের সংক্রামিত হওয়ার খবরে আশঙ্কায় রয়েছেন। তবে এই করোনা আতঙ্কের মধ্যেই জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের কর্মীদের কিছুটা হলেও সাহস জোগাচ্ছেন নতুন জেলা পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব। পুলিশ সুপার হিসাবে প্রথম পোস্টিং পাওয়া এই তরুণ আইপিএস অফিসার হওয়ার পাশাপাশি একজন এমবিবিএস ডাক্তার। ফলে নতুন ডাক্তার এসপির নেতৃত্ব জেলা পুলিশের কর্মীদের মনোবল বাড়াচ্ছে।

জেলার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আমাদের কাজ করে যেতে হচ্ছে। এর ফলে আমাদের এবং পরিবারের লোকদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছেই। লকডাউনের শুরু থেকেই ডাক্তারবাবুরা যা বলছেন তাই করে চলেছি। তবে সত্যিটা হল, পুলিশের সমস্যা পুলিশ ছাড়া কেউই বোঝে না। জেলার নতুন সাহেব একজন ডাক্তার হওয়ায় একটু বাড়তি সাহস পাচ্ছি। তিনি আমাদের স্বাস্থ্যের কথা ভাববেন এবং সঠিক পথ বাতলে দেবেন।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি জেলায় দশটি থানা এবং ফাঁড়ি সহ রিজার্ভ বাহিনী মিলে প্রায় তিন হাজার পুলিশকর্মী রয়েছেন পুলিশ সুপারের নিয়ন্ত্রণে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করার আগে ২০১০ সালে রাজস্থানের জয়পুরের সোয়াই মান সিং মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করেন এই তরুণ পুলিশ অফিসার। তারপর স্টেথো ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়া এবং ২০১৫ সাল থেকে বেঙ্গল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হিসাবে কাজ শুরু তাঁর। মাঝেমধ্যে ফাঁক পেলে ডাক্তারিও ঝালিয়ে নেন। সেই সূত্রে পুলিশের খাকি উর্দির পাশাপাশি স্টেথোও তাঁর সঙ্গী।

জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক একজন ডাক্তার শুনে খুশি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রমেন্দ্রনাথ প্রামাণিকও। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশকর্মীরা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে লড়ছেন। আমরা চাইব, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নতুন পুলিশ সুপার তাঁর চিকিৎসক রূপটিও আমাদের সামনে তুলে ধরবেন। তাতে পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।

যাঁকে ঘিরে জেলার পুলিশকর্মীদের মনোবল বাড়ছে তিনি কিন্তু একেবারে চিকিৎসকসুলভ দৃষ্টিতেই দেখছেন করোনা পরিস্থিতিকে। জেলার নতুন পুলিশ সুপার বলেন, যে কোনও রকম পরিস্থিতিতে পুলিশকে তার কাজ করতেই হবে নিষ্ঠার সঙ্গে। তবে তাঁরাও মানুষ। তাই সংক্রমণের আশঙ্কা থাকবে। তবে আমাদের আশঙ্কার বদলে আশাবাদী হতে হবে। ভয়ের বদলে সচেতন হতে হবে। পুলিশের প্রতিটি স্তরে এ বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। সাধারণ মানুষের মতো পুলিশকর্মীরা এবং তাঁদের পরিবার যেন সুরক্ষিত থাকেন তা আমরা সুনিশ্চিত করব স্বাস্থ্যবিধি মেনেই। সেই সঙ্গে একজন চিকিৎসক হিসাবে জনসচেতনতা প্রচারে কতটা কাজ করা যায়, তা দেখছি।