শিলিগুড়ি কোচবিহার, ১৭ মার্চঃ বাগডোগরা বিমানবন্দরের টার্মিনাল সমস্যার সমাধানে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এএআই) নতুনভাবে উদ্যোগী হয়েছে। পাশাপাশি, কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে নতুন দফায় বিমান চালানোরও উদ্যোগ চলছে। শনিবার এএআই-এর রিজিওনাল এগ্জিকিউটিভ ডিরেক্টর (আরইডি) এস পি যাদবের নেতত্বে এক প্রতিনিধিদলের দুটি বিমানবন্দর পরিদর্শনের ঘটনায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়। বাগডোগরা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালের জন্য দলটি এলাকার একটি হোটেল সংলগ্ন জমি পরিদর্শন করে। এখানে ১০৪ একর জমি রয়েছে। অন্যদিকে, কোচবিহার বিমানবন্দর পরিদর্শন করার পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সেখানকার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

মূলত জমি সংকটেই বাগডোগরা বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল হচ্ছে না। যার ফলে যাত্রীদের প্রতিদিনই চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই বিমানবন্দরে প্রতিদিন ৩২টি বিমান ওঠানামা করে। মে মাস থেকে ৪৫টি বিমান ওঠানামা করবে। বর্তমান টার্মিনালে ৪০০ জনের ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিদিন এখানে প্রায় তিন হাজার যাত্রী হয়। সমস্যা মেটাতে এযারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাজ্যের কাছ থেকে জমি চেয়ে আসছে। জমি সংক্রান্ত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দুপক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক হযে কিন্তু আশ্বাসের বাইরে কিছুই হয়নি। ১১০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য এএআই গত ৮ নভেম্বর ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ কোটি টাকা মঞ্জুরও করে।

কিন্তু এই ক্ষেত্রে রাজ্যকে একটি চা বাগানের কিছুটা অংশ অধিগ্রহণ করতে হত। যদিও সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা ছিল না। ১৯৯৫-এর আইন বলে রাজ্য জমির লিজ বাতিল ও জমির চরিত্র বদল করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চা বাগানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তবে এএআই কর্তাদের বক্তব্য, রাজ্য এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়নি। এই কারণে শনিবার নতুন করে টার্মিনালের জন্য একটি হোটেল সংলগ্ন জমি এএআই কর্তারা পরিদর্শন করেন বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, জমি অধিগ্রহণ এবং টার্মিনালের জন্য এএআই ৬০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নির্বাচনবিধির জন্য রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

অন্যদিকে, পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শনিবার এএআই-এর দুই আধিকারিক কোচবিহার বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। তাঁরা কোচবিহার এয়ারপোর্ট অথরিটির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকও করেন। নির্বাচনের আগে বিমানবন্দরে এ ধরনের বৈঠক নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়িয়েছে। ভোটের আগেই কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিসেবা চালু হচ্ছে কিনা তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কোচবিহার এয়ারপোর্ট অথরিটির আধিকারিক প্রদীপ্তকুমার বেজ অবশ্য বলেন, এটা অন্য কোনো বিষয় নয়। রুটিন চেকআপের জন্যই দুই আধিকারিক এসেছিলেন। বিমানবন্দরে কী কী সুবিধা রয়েছে, কীভাবে মেনটেন্যান্স হচ্ছে তা নিয়ে রুটিন আলোচনা হয়েছে।

রাজ আমলে চালু হওয়া বিমান পরিসেবা ১৯৯৫ সালে পাকাপাকিভাবে বন্ধ হযে যায়। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের কয়েক মাস পর ফের বিমান পরিসেবা চালু হয়। কিন্তু পাঁচ-ছয়দিন চলার পরেই সেই পরিসেবা অনিয়মিত হয়ে পড়ে বন্ধও হয়ে যায। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিসেবা ফের চালু হয়। কিন্তু মাসখানেকের মধ্যে ছয়-সাতদিন অনিয়মিত চলার পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফের তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নতুন করে তা আর চালু হযনি।