কোচবিহার : কোচবিহার-২ ব্লকের মধুপুরের তোর্ষা নদী থেকে এখনও অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে। বালি মাফিয়ারা এখন অবশ্য অন্য কৌশল নিয়েছে। আর্থমুভার ও ডাম্পারের বদলে ২৫-৩০টি ট্র‌্যাক্টর ও ট্রলি করে বালি পাচার করছে তারা। ছুটির দিনে সারাদিন বালি তোলা চলছে। এছাড়া সন্ধ্যা থেকে মাঝরাত পর্যন্ত ও ভোরবেলায় বালি তোলা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে। ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে খবর, ওই জায়গা থেকে কাউকে বালি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সরকার অনুমোদিত বালির বেড ছাড়া অন্য কোনও জায়গা থেকে বালি তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর জল নামতেই প্রতি বছর এলাকায় বালি পাচারের একটি দল সক্রিয় হয়ে উঠে। বেশ কিছুদিন ধরে হাঁসখাওয়া পিকনিক স্পট, রেলসেতু ও বাঁধ ঘেষে মাটি তোলা হচ্ছিল, যার ফলে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংক্রান্ত খবর সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ ছবি সহ প্রকাশিত হয়। তারপরই বালি মাফিয়ারা কৌশল পালটে ফেলেছে। সম্প্রতি বাসিন্দারা কোচবিহার-২ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক এবং ভূমি আধিকারিককে এ বিষয়ে পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাধ্যমিক পরীক্ষার মরশুমে সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ট্র‌্যাক্টরের আওয়াজে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। সেইসঙ্গে ধুলোর চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রাস্তা সংলগ্ন বাড়িগুলি। তাঁদের আরও অভিযোগ, এর পেছনে শাসকদল ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীদের মদত থাকায় কেউ কিছু বলার সাহস পান না। প্রতিবাদ করলেই উলটে তাঁদের হুমকির মুখে পড়তে হয়। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের তরফে নজরদারি চালানো হলেও তা লোকদেখানো বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

- Advertisement -

এ বিষয়ে মধুপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেঘনাদ রায় বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে বালি তোলা হচ্ছে। কেউ যদি অবৈধভাবে বালি তোলে, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। দলের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নন। যদিও ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে কাউকে বালি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক এম টি লেপচা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানাচ্ছি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। কোচবিহার-২ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক থিনলে ফুন্টসোক ভুটিয়া বলেন, পুলিশ এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা স্পটে গিয়েছিলেন। নজরদারি চলছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।