সুমন কাঞ্জিলাল, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার শহরের আবর্জনা সাফাই সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য এবার ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন ও পুরসভা। আবর্জনা সাফাইয়ে ক্ষেত্রে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ধারণাকেই তুলে দিতে চাইছে জেলা প্রশাসন। শহরের আবর্জনা কম্প্যাক্টর মেশিনের মাধ্যমে নিষ্পেষিত করে তা শহরের নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে। তারপর সেখান থেকে আবর্জনার মণ্ড সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে চলে যাবে। এর ফলে ওই এলাকায় আবর্জনা জমা করার কোনো বিষয় থাকবে না। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বিষয়টাও আর থাকবে না। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প যেখানে গড়ে উঠবে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সব কিছু বুঝিয়ে বলা হবে। এই জন্য রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফ থেকে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে আলিপুরদুয়ারে পাঠানো হবে। এই প্রকল্প রূপায়ণে ট্রানজাকশন অ্যাডভাইসর নিয়োগ করা হবে। বুধবার ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সমস্যা সমাধানে এই নতুন ধারণার রূপায়ণ নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী ও জেলাপরিষদের মেন্টর তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মোহন শর্মা একপ্রস্থ আলোচনা করেন বলে জানা গিয়েছে। বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, গত সপ্তাহে বিধানসভা চলাকালীন আলিপুরদুয়ার শহরের ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যা নিয়ে নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। সেইসময় দপ্তরের মুখ্য সচিব সুব্রত গুপ্ত বলেন, আগে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জায়গা নির্বাচন করতে হবে। তারপর সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের অত্যাধুনিক প্রকল্পটি সম্পর্কে বুঝিয়ে বলতে কলকাতা থেকে ১৬ জনের একটি সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট টিমকে ওই এলাকায় পাঠানো হবে। সৌরভ বলেন, নতুন প্রকল্প অনুসারে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জায়গায় কোনো আবর্জনা জমা করা হবে না। প্রথমে শহরের আবর্জনা শহরের মধ্যে শাটার দেওয়া গুদামে রাখা হবে। তারপর সেখান থেকে সপ্তাহে তিনদিন তা নির্দিষ্ট গাড়িতে করে সোজা সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। ওই সেন্টারে প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু প্রাচীর করা হবে। প্রায় ১০ একর জায়গায় ৪০ ফুট উঁচুতে সলিড ওযে্টের মেশিন বসানো হবে। সেখানে আবর্জনা থেকে জৈব সার প্রস্তুত হবে। অনেক কর্মসংস্থান হবে। বুধবার নগরোন্নয়ন দপ্তরের মুখ্যসচিব সুব্রত গুপ্তের প্রস্তাব জেলাশাসককে জানিয়েছি। তবে এই নিয়ে জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। জেলাশাসক এই বিষয়ে মহকুমাশাসক তথা আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসক কৃষ্ণাভ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। মহকুমাশাসক বলেন, অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে সলিড ওযে্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ে তুলতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই নিয়ে কলকাতায় নগরোন্নয়ন দপ্তর এবং অর্থ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কলকাতা থেকে ট্রানজাকশন অ্যাডভাইসর পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

কোন জায়গায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়া হবে তা নিয়ে সংশয় আছে জেলা প্রশাসন ও পুরসভার আধিকারিকদের মধ্যে। মাঝেরডাবরি চা বাগানের একটি জায়গা প্রায় ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা দিয়ে কেনা হলেও সেখানে ফের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ে তোলা যাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। তার আগে পুরসভার পক্ষ থেকে নোনাই নদী সংলগ্ন এলাকায় জমি কেনা হয়েছিল। সেখানেও এই প্রকল্প গড়ে তোলা য়ায়নি। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, আগের দুটি জায়গা ছাড়াও অন্য বিকল্প জায়গায় নতুন পদ্ধতিতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট চালু করার চেষ্টা চলছে। এই নতুন পদ্ধতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে কোনো আপত্তি আসবে না বলে মনে করি। যদিও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, গত নয় মাস ধরে শহরের আবর্জনা নিয়মিত সাফাই হয় না। গোটা শহর আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় শহরের যেখানে-সেখানে আবর্জনা ভেসে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তাই এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যা সমাধানের কথা বলা হচ্ছে। মানুষ আর বেশিদিন এই সমস্যা বরদাস্ত করবে না।