উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে নতুন টেস্ট পুনে আইসারের

282

পুনে: উপসর্গহীন রোগীদের চিহ্নিত করার জন্য নতুন রকম পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এল পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ। উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত রোগীরাই চিন্তার মূল কারণ। রোগের বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় সংক্রামিতদের চিহ্নিত করা যায়না সঠিকভাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সংক্রমণের হার বৃদ্ধির এটাও একটা কারণ।

আইসারের গবেষকরা বলছেন, করোনা রোগীদের সংস্পর্শে আসা মানুষজন যাদের সংক্রমণের উপসর্গ নেই অথচ শরীরে ভাইরাস রয়েছে তাদের সহজে শনাক্ত করা যায়না। সকলের ক্ষেত্রে দামি রিয়েল টাইম আরটি পিসিআর টেস্ট করাও সম্ভব নয়। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে অনেক সময় ফলস রেজাল্ট আসে।

- Advertisement -

অলফ্যাক্টরি নার্ভের মাধ্যমে গন্ধের অনুভূতি মাথায় পৌঁছায়। তাই এই ধরনের কোভিড টেস্টের জন্য অলফ্যাক্টরি-অ্যাকশন মিটার তৈরি করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ হলে প্রাথমিক পর্যায়ে নাকের গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা চলে যায় অনেক ক্ষেত্রে। এই লক্ষণ দেখে করোনা সংক্রমণ হয়েছে কিনা ধরা যায়। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট ছাপা হয়েছে।

দিল্লিতে সেরো সার্ভে বা অ্যান্টিবডি টেস্ট রিপোর্টেও দেখা গিয়েছে, অন্তত ২৯ শতাংশ রোগীর শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি রয়েছে। যার অর্থ এই রোগীরা সংক্রামিত হয়েছিলেন, কোনও উপসর্গ দেখা না যাওয়ায় এদের শনাক্ত করা যায়নি।  গবেষকরা বলছেন, এই উপসর্গহীন রোগীদের পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে বেশিরভাগেরই নাকের গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা কমেছে বা একেবারে লোপ পেয়েছে। এই রোগকে বলে অ্যানোসমিয়া।

সর্দি কাশির সংক্রমণ হলে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, সাইনাস দেখা যায়। করোনাভাইরাস মানুষের শ্বাসযন্ত্রকে পুরোপুরি বিকল করে দেওয়ার চেষ্টা করে। যার ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং নাকের গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি চলে যায়। গন্ধের অনুভূতি আসে কয়েকটা ধাপে।

অলফ্যাক্টরি-অ্যাকশন মিটার যন্ত্রে নানা রকম গন্ধের উপাদান বিভিন্ন রকম ঘনত্বে রোগীর নাকের সামনে ধরা হবে। যিনি সুস্থ তিনি সবরকম গন্ধই পাবেন। যার শরীরে সংক্রমণ রয়েছে সে সবরকম ঘনত্বের গন্ধ পাবে না। প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে এই টেস্টে উপসর্গহীন কোভিড রোগীদের চিহ্নিত করা যাবে।