শিলিগুড়ির চাপ কমাতে নতুন টাউনশিপ

179

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : লোক বাড়লে শহরের সীমানাও বাড়া প্রয়োজন। নয়তো দিন-দিন যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে শিলিগুড়িতে, তাতে শহর ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে চাপ। যার প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই শহর শিলিগুড়িকে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের অটল মিশন ফর রিজুভেনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফর্মেশন (আম্রুত)-এর অধীনে সেই কাজ করা হবে।

সরকারি তথ্য অনুসারে শিলিগুড়িতে এখন জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে দশ লক্ষ। এছাড়া প্রতিদিনই বাইরে থেকে বহু মানুষ নানা কাজে আসেন শহরে। তাঁদের সংখ্যাটাও যদি হিসেবের মধ্যে ধরা যায়? -তবে সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৫ লক্ষে। কীভাবে শহরকে প্রসারিত করার কাজ করা হবে? কাজে লাগানো হবে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ও মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটাকে। এই এলাকাগুলি নিয়ে গড়ে তোলা হবে স্যাটেলাইট টাউনশিপ। তা নিয়ে সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। ল্যান্ড ইউজ, সোশিও-ইকনমিক্সের মতো একাধিক প্যারামিটারের উপর ভিত্তি করে সেই সমীক্ষা করা হচ্ছে। হায়দরাবাদের একটি সংস্থাকে দিয়ে সমীক্ষা করাচ্ছে স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি।

- Advertisement -

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সমীক্ষার কাজ শেষ হলে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হবে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। তবে নতুন এলাকাগুলি শিলিগুড়ি পুরনিগমের আওতায় নিয়ে আসা হবে, নাকি সেগুলি নিয়ে নতুন পুরসভা তৈরি করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতা গৌতম দেব বলেন, শহরে জনসংখ্যা এবং গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। জনজীবনের গতিবৃদ্ধিতে শিলিগুড়িকে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেজন্যই নতুন স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

রাজ্যে গুরুত্বের নিরিখে কলকাতার পরই শিলিগুড়ির অবস্থান। কিন্তু হিলকার্ট রোড, বর্ধমান রোড এবং সেবক রোড- এই তিনটি রাস্তার মধ্যেই যেন শহরটা আটকে রয়েছে। নয়ের দশকের পর নতুন রাস্তা কার্যত তৈরি হয়নি। বালাসন সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পর নতুন রাস্তা বা বিকল্প সড়ক যে কতটা জরুরি, তা হাড়েহাড়ে বুঝতে পারছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এদিকে, নতুন রাস্তা না হলেও সময়ে সঙ্গে জনসংখ্যা তো ব্যাপক বেড়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে শহরের গুরুত্বও অনেকটা বেড়েছে। শহরে জায়গা নেই। তাই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অধীনে থাকা মাটিগাড়া, বাগডোগরা, পাথরঘাটার মতো এলাকাগুলিতে নগরায়ণ ঘটেছে। ইস্টার্ন বাইপাসকে কেন্দ্র করে ডাবগ্রাম এবং নিউ জলপাইগুড়ি জংশন সংলগ্ন ফুলবাড়ির গুরুত্বও বেড়েছে। তাই রাজ্য সরকারও চাইছে শিলিগুড়িকে ছড়িয়ে দিতে।

তবে খাপরাইল সহ মাটিগাড়ার একটা অংশে সেনাবাহিনীর কাজকর্ম চলে। তাই স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ার ক্ষেত্রে মাটিগাড়াকে বাদ রাখা হচ্ছে। যদিও রাজ্যের ভাবনায় ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির সঙ্গে রয়েছে মাটিগাড়ার পাথরঘাটার একটা অংশ। স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে উঠলে শিলিগুড়ির ওপর থেকে চাপ কমবে।

শুধু শিলিগুড়িকে ছড়িয়ে দেওয়াই নয়, শহরকে কিছুটা নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য। যার জন্য সেবক রোডের সঙ্গে হিলকার্ট রোডের সংয়োগস্থাপনে নতুন রাস্তা ও মহানন্দা নদীর ওপর সেতু তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি পার্কিং প্লেস, বিধান মার্কেট সহ বেশ কয়েকটি বাজার নতুন করে গড়ে তোলার কাজও হাতে নেওয়া হবে। ইস্টার্ন বাইপাস থেকে জলপাইগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগের নতুন রাস্তা এবং শিলিগুড়ির সঙ্গে পাথরঘাটার নতুন রাস্তা তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সমীক্ষায়।