পর্যটনের নতুন ঠিকানা হতে পারে কালিম্পংয়ের কুয়াখাম

470

অনুপ সাহা, ওদলাবাড়ি : যাতায়াতের পথ স্বাভাবিক হলে শান্ত, নিরিবিলি, দূষণমুক্ত সবুজ পাহাড় ঘেরা প্রকৃতির কোলে এক-দু রাত কাটানোর সেরা ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে কুয়াখাম গ্রাম। ওদলাবাড়ির অদূরে উত্তর প্রান্তের কালিম্পং পাহাড়ের কোলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ২৫০০-৩০০০ ফুট উচ্চতায় ছবির মতো সুন্দর গ্রাম কুয়াখাম। ট্রেকিংয়ে প্রতি ঝোঁক আছে যাঁদের তাঁরা অনায়াসেই তুড়িবাড়ির পর লেইতি নদীপথ ধরে কয়েক ঘণ্টার ট্রেক করে পাহাড়ি এই গ্রামে পৌঁছে যেতে পারেন। বুধবার ওদলাবাড়ির পরিবেশপ্রেমী সংগঠন নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চাচারের একটি ট্রেকিং দল কুয়াখাম গ্রামে পৌঁছে রীতিমতো মুগ্ধ। সংস্থার আহ্বায়ক সুজিত দাস বলেন, পাহাড়ের ঢালে ঝুম চাষ, ইতিউতি চেনাঅচেনা পাখির ডাক, সবুজ প্রকৃতির হিমেল আমেজ য়েন এতটা পথ হেঁটে পাড়ি দেওয়ার ক্লান্তি যেন মুহূর্তের মধ্যে উধাও করে দিল। অত্যন্ত অতিথিবত্সল এই গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিশ্বনাথ ঘিসিং, কান্ছা লামা সহ স্থানীয়রাই ট্রেকিং দলের পড়ুয়া সদস্যদের পুরো গ্রামটি ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। যে কয়টি পরিবার এই শান্ত পাহাড়ি জনপদে বসবাস করেন তাঁরা সকলেই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। ধান, যব, আদা, ঝাড়ু ইত্যাদির চাষ করে জীবিকানির্বাহ করেন তাঁরা। দুর্গম হলেও মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু আছে কুয়াখামে। সুজিতবাবুর মাধ্যমে গ্রামের বিশ্বনাথ ঘিসিং ও কান্ছা লামার সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে যে, বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে তাঁদের গ্রামে হোমস্টে চালু করা যায় কিনা তা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন তাঁরা। বাধা বলতে সড়ক পথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। চুইখিম,বরবট সড়ক পথ ধরে একটি রাস্তা অবশ্য কুয়াখাম পর্যন্ত গিয়েছে। সেটাকেই যদি পিচ সড়কে পালটে দেওয়া যায় তবে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠা শুধু সময়ে অপেক্ষা কুয়াখামের। নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেনঞ্চাচারের আহ্বায়ক সুজিতবাবু বলেন, এদিন গ্রামের মানুষকে প্রকৃতির সৌন্দর্যে গাছের প্রযোজনীয়তা কতটা তা বুঝিয়েছি। পাহাড়ের ঢাল থেকে দামি গাছ কেটে নেওয়ার যে প্রবণতা ইদানীং শুরু হয়েছে তাতে আখেরে ধস নেমে তাঁদের বিপদই যে ঘনিয়ে আসছে সেটা বুঝে এই পাহাড়ি গ্রামের মানুষজন এদিন থেকে গাছগুলো রক্ষা করার শপথ নিয়েছেন।