সানি সরকার, শিলিগুড়ি : জঞ্জাল অপসারণ এবং দূষণ রোধে নয়া উদ্যোগ নিচ্ছে শিলিগুড়ি পুরনিগম। বাণিজ্যিক এলাকা এবং বহুতলগুলির আবর্জনা ডাম্পিং গ্রাউন্ড পর্যন্ত টেনে নেওয়ার পরিবর্তে এলাকাতেই তা অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার এবং সুইস ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের সহযোগিতায় এলাকাভিত্তিক কম্পোজিট মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুয়াযী পুজোর আগেই এই কাজ শুরু হযে যাবে বলে আশাবাদী পুরকর্তারা। পাশাপাশি, দূষণ রোধে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে প্রচুর গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানেও বসানো হবে কম্পোজিট মেশিন। মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সমযে সঙ্গে জনবসতির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আবর্জনার পরিমাণও বাড়ছে। যা অপসারণের ক্ষেত্রে সমস্যাও দেখা দেয় অনেক। তাই নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিযে দূষণমুক্ত শহর গড়ে তুলতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

কোথাও ভ্যাট উপচে পড়ছে আবর্জনা, কোথাও আবার দীর্ঘদিন জঞ্জাল অপসারণ না হওয়ায় তা বড়ো ঢিবির আকার নিয়েছে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের এমন ছবি দেখে শহরবাসী রীতিমতো ক্ষুব্ধ। ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিযে ক্ষোভ রয়েছে সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও। ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির সময় এলাকাটি শুনসান থাকলেও, বর্তমানে সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে একাধিক স্কুল এবং কলেজ। ফলে ডাম্পিং গ্রাউন্ড এখন বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে। এই সমস্যার সমাধানে স্থানীয়রা একাধিকবার যেমন আন্দোলনে নেমেছেন, তেমনই পুরনিগমের তরফে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বারবার। এমনকি মেয়র থাকাকালীন গঙ্গোত্রী দত্ত জার্মানি পর্যন্ত গিয়েছিলেন। কিন্তু ডাম্পিং গ্রাউন্ড সমস্যার সমাধান যেমন হয়নি, তেমনই শহরের জঞ্জাল অপসারণ ব্যবস্থা দিনদিন বেহাল হযে পড়ছে। আর এই সমস্যা কাটিযে ওঠার ক্ষেত্রে এবার প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে পুরনিগম। শহরের জঞ্জাল নিয়ে সমীক্ষা করার পাশাপাশি অপসারণের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিযে গত কয়েক মাস ধরেই কাজ করছে সুইস ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। এই ক্ষেত্রে শহরের ২ এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডকে বেছে নিয়েছিল সংস্থাটি। পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, সুইস ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের পরামর্শে এলাকাভিত্তিক কম্পোজিট মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স এবং বহুতল যেখানে বেশি রয়েছে সেখানে এই মেশিন বসানো হবে। প্রতিদিনের আবর্জনা থেকে সার তৈরি করা হবে কম্পোজিট মেশিনের মাধ্যমে। ফলে ওই এলাকার আবর্জনা যেমন ডাম্পিং গ্রাউন্ড পর্যন্ত নিতে হবে না, তেমনই পরিবহণ এবং কর্মদিবস বাঁচবে। এই ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আবর্জনার পরিমাণ কমবে বলে মনে করছেন মেয়র। বহুতলগুলিতে বড়ো আকারের ডাস্টবিন বসানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার আর্থিক সাহায্য করবে বলে অশোকবাবু জানান।

দূষণ রোধেও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পুরনিগম। এই লক্ষ্যে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের চারদিকে নতুন করে প্রচুর গাছ লাগানো হবে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের আবর্জনা যাতে প্রাচীরের বাইরে চলে না আসে, তার জন্য নতুন করে ভিতরে আরও কয়েকটি রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে গাড়িগুলি ভিতরে ঢুকে জঞ্জাল ফেলতে পারে। পাশাপাশি, ডাম্পিং গ্রাউন্ডেও কম্পোজিট মেশিন বসানো হবে। অশোকবাবুর বক্তব্য, সবমিলিয়ে ১০ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। সুইস ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকারও। প্রয়োজনে মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন থেকে ঋণ নেওয়া হবে।