বর্ধমান, ১৯ জানুয়ারিঃ মাতৃত্ব  জনিত সরকারী অনুদান পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে এক প্রসূতির কোল থেকে সদ্যজাত সন্তানকে নিয়ে পালালো এক মহিলা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি রবিবার ঘটেছে বর্ধমানের অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফের প্রশ্নের মুখে সরকারী  হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসূতি রীমা মালিকের  বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সিপটা গ্রামের উত্তর পাড়ায়। প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে তিনি গত বৃহঃস্পতিবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন।  শুক্রবার বিকালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। রবিবার সকালে হাসপাতাল থেকে সন্তান সহ ছাড়া পেয়ে যান রিমা। এরপর রাধারানী ওয়ার্ডের সামনের বিশ্রামাগারে সন্তান সহ তাকে রেখে তাঁর স্বামী সন্দীপ ওষুধ কিনতে যান। সেইসময়ই এক মহিলা তাদের কাছে এসে যেচে কথা বলা শুরু করে। নিজেকে আশা কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে ওই মহিলা  জানায়, তার নাম রিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়।  এরপর পরেই ওই মহিলা তাদের কাছে জানতে  চায় শিশুর জন্মের পর সরকারী ছয় হাজার টাকা পেয়েছে কিনা। রীমাদেবী কোন টাকা না পাবার কথা ওই মহিলাকে জানায়। তখন সেই মহিলা মাতৃত্ব জনিত সরকারী টাকা পাইয়ে দেবার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। ওই মহিলা তাদের  বর্ধমান হাসপাতাল থেকে অনাময় হাসপাতালে যাবার পরামর্শ দেন। রীমাদেবী পুলিশকে জানিয়েছেন সরল বিশ্বাসে তিনি, তাঁর মা রেনুকা বাগ এবং স্বামী সন্দীপ সরকারী গাড়ি ছেড়ে দিয়ে টোটো ভাড়া করে ওই মহিলার সঙ্গে অনাময় হাহপাতালে যান। ওই মহিলা অনাময় হাসপাতালের ভিতরের  প্রথলে একটি জায়গায়  নিয়ে গিয়ে তাদের বসান । তারপর সেখান থেকে সন্দীপবাবুকে অনাময় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে একটি ঘরের সামনে দাঁড় করিয়ে বলে ‘এখানে দাঁড়াও।  এখানেই তোমার স্ত্রীর নাম ডেকে তাঁকে টাকা দেওয়া হবে’।  সন্দীপকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রেখে ওই মহিলা রীমার কাছে চলে আসেন। শিশু কন্যার ওজন করাতে হবে বলে মহিলা রীমার কাছ থেকে শিশুকন্যাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে গায়েব হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাবার পরেও শিশুকন্যাকে নিয়ে ওই মহিলা ফিরে না আসায়  রীমা তাঁর স্বামীকে ফোন করেন। সন্দীপবাবু  রীমাকে জানায়, ওই মহিলা তাকেও উপরেতলার একটি ঘরের সামনে দাঁড়াতে বলে আর ফেরেনি। আশাকর্মী পরিচয় দেওয়া ওই মহিলা শিশুকন্যাকে চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে বুঝতে পারার পরেই সকলেই ওই মহিলার খোঁজ

করতে থাকে।
এই ঘটনা জানার পর অনাময় হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অমিতাভ  সাহা সহ কর্তৃপক্ষও নড়ে-চড়ে বসেন। কর্তৃপক্ষ  অনাময় হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন বেলা  ১২ টা ৫৯ মিনিট নাগাদ ওই মহিলা শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বর্ধমানের উল্লাসের দিকে চলে যাচ্ছে। খবর পেয়ে বর্ধমান  থানার পুলিশও অনাময় হাসপাতালে পৌঁছায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে শিশু চুরির ঘটনার  তদন্ত শুরু করেছে। জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে

পাওয়া ছবি দেখে ওই মহিলার খোঁজ চালানো হচ্ছে