বাবা ও মায়ের পরিচয় পত্র না মেলায় সঙ্কটে সদ্যজাতর ভবিষ্যৎ

300

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে গলা টিপে খুন করার অভিযোগে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা মা জেলবন্দি হয়। এই ঘটনার মাস দেড়েক বাদে অর্থাৎ দিন চারেক আগে ফের কন্যা সন্তান জন্ম দেন ওই মহিলা। বর্তমানে পুলিশি প্রহরায় মা ও সদ্যজাত রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজেই আছেন। কিন্তু, সমস্যা দেখা দিয়েছে, সদ্যজাতর ভবিষ্যৎ নিয়ে।

কারণ, সদ্যজাতর মা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এমত পরিস্থিতি সদ্যজাতর নাম রাখা থেকে রুখে করে জন্ম শংসাপত্র প্রদানে প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শংসাপত্র দিতে পারছে না। সদ্যজাতর বাবাও তার নথি দিতে চাইছেন না বলে অভিযোগ। এমনকি সদজাত ও তার মাকে গ্রহণ করতেও রাজি নন বলে জানাগিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সদ্যজাতর ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে।

- Advertisement -

এদিকে মা ও সদ্যজাতর বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থার আর্জি জানিয়ে রায়গঞ্জ সংশোধনাগারের জেল সুপার সম্রাট ভট্টাচার্য মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথির অভাবে তা সম্ভব কিনা চিন্তায় চিন্তায় মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তাদের বক্তব্য, বাবা অথবা মায়ের আধার কার্ড পরিচয় পত্র না দিলে বার্থ সার্টিফিকেট করা সম্ভব নয়। জেল কর্তৃপক্ষ বারংবার যোগাযোগ করছেন ওই গৃহবধূর স্বামীর পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু তারা আধার কার্ড দিতে নারাজ। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বারংবার ফোন করলেও পরিচয় পত্র দিতে নারাজ অভিযুক্তের স্বামী। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন,”আমরা ওই বধুর স্বামীকে ফোন করেছিলাম। স্বামীর বক্তব্য, পরিচয় পত্র নিয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে আসবে না।” ফলে শিশুর ভবিষ্যৎ সংকটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বাবা অথবা মায়ের পরিচয় পত্র জমা না দিলে একরত্তির বার্থ সার্টিফিকেট হবে না। বর্তমানে ওই গৃহবধূ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

উল্লেখ্য, উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের কাচাকালি গ্রামের বাসিন্দার সঙ্গে একই ব্লকের দুলুভিটা গ্রামের বসন্ত এক্কার বিয়ে হয়। তাদের দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তান ছিল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই গৃহবধূ তার দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে গলা টিপে খুন করার অভিযোগ দায়ের হয় চোপড়া থানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বধূকে গ্রেপ্তারের পর রায়গঞ্জ সংশোধনাগারে পাঠায়নো হয়। দিন চারেক আগে ওই গৃহবধূ কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। কিন্তু বধূর আধার কার্ড ভোটার কার্ড সবকিছুই রয়েছে স্বামীর কাছে।