বিশ্বাসযোগ্যতার নিরিখে সংবাদপত্রই সেরা

60

নয়াদিল্লি : প্রথমে বৈদ্যুতিন মাধ্যম। পরে ডিজিটাল মাধ্যম তথা সোশ্যাল মিডিয়া। গণজ্ঞাপনে বিপ্লব ঘটে গিয়েছে গত কয়েক দশকে। কিন্তু তারপরেও ছাপার অক্ষরের প্রতি বিশ্বাস টলেনি মানুষের। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, গণমাধ্যমের দুনিয়ায় বিশ্বাসযোগ্যতার নিরিখে এখনও এক নম্বরে খবরের কাগজ। শুধু খবরের কাগজ নয়, মুদ্রিত যে-কোনো গ্রন্থ বা পত্রপত্রিকার বক্তব্য সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য আমজনতার কাছে।

এটা ঠিক যে, বৈদ্যুতিন গণমাধ্যম এবং ডিজিটাল সোশ্যাল মিডিয়া আসার পর মুদ্রিত সংবাদপত্র বা সাময়িক পত্রপত্রিকা, বইয়ের বিক্রি পড়তির দিকে। কিন্তু বিক্রি কমার পিছনে অন্য অনেক কারণ থাকলেও তার সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং, দেখা গিয়েছে, বৈদ্যুতিন বা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর বা তথ্য যাচাইয়ের জন্যও পাঠক বা দর্শক নির্ভর করে মুদ্রিত খবরের কাগজ বা পত্রপত্রিকার ওপর। ফলে মুদ্রিত বইপত্র বা পত্রিকার দায়দাযিত্ব আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কারণ, উনিশ বা বিশ শতকে মুদ্রিত কাগজের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। আজ প্রতিদ্বন্দ্বীকে যাচাই করা হচ্ছে মুদ্রিত পত্রিকার কষ্টিপাথরে। এই চাহিদা পত্রিকার পক্ষে যেমন সম্মানের, তেমনই অগ্নিপরীক্ষারও, বলছেন সমীক্ষকরা।

- Advertisement -

কী জানা গেল সমীক্ষা থেকে? প্রথমত, সংবাদপত্র পড়ার সময় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, বিশেষত মধ্যবয়সিদের (৪১-৫০ বছর বয়সি) মধ্যে। দ্বিতীয়ত আঞ্চলিক বা মাতৃভাষায় সংবাদপত্র পাঠের আগ্রহ বেড়েছে। ইংরেজি ছেড়ে অন্তত ১৫ শতাংশ পাঠক চলে এসেছেন এই দিকে। তৃতীয়ত, খবরের কাগজের পাঠকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি নজর দিচ্ছেন বিজ্ঞাপন দেখায়। শিক্ষা থেকে অর্থ বিভিন্ন বিষয় জানতে তাঁরা বিজ্ঞাপনে চোখ রাখছেন। মাত্র ১০ শতাংশ পাঠক বিজ্ঞাপনে উৎসাহহীন নন, দেখা গিয়েছে। চতুর্থত, দক্ষিণ ভারতে অন্তত ৬০ শতাংশ পাঠক জ্ঞানার্জনের হাতিয়ার হিসাবে দেখেন সংবাদপত্রকে। অবশ্য পশ্চিমাঞ্চলে ৩৩ শতাংশ পাঠক স্থানীয় সংবাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট।

সমীক্ষায় আরও প্রকাশ, প্রতিদিনের ঘটনাবলি ও পণ্যের খুঁটিনাটি তথ্য ও খবর থেকে শুরু করে যে-কোনো জ্ঞানগর্ভ বিষয়বস্তু সম্পর্কিত তথ্য পেতেও পাঠক এখনও ভরসা করেন মুদ্রিত পত্রপত্রিকাকে। বিসিসিএল-এর কর্মসমিতির প্রধান শিবকুমার সুন্দরমের মতে, মুদ্রিত পত্রপত্রিকার যে জটিল ব্যবস্থাপনা, যার সঙ্গে ছাপার আগে তথ্য বার বার যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি যুক্ত, সেটাই তার বিশ্বাসযোগ্যতার মূলে রয়েছে। তাঁর আরও বক্তব্য, মুদ্রিত কাগজপত্রে সাংবাদিকতার সমস্ত শক্তি ও দক্ষতা নিংড়ে সংবাদ পরিবেশিত হয়। বিনিয়োগটাও হয় এই অভিমুখে। যার জন্য প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্রগুলি সবচেয়ে দামি ও বিশ্বাসযোগ্য ব্র‌্যান্ডের মর্যাদা পেয়েছে কর্পোরেট দুনিয়ায়। হাভাস মিডিয়া গ্রুপের প্রধান সঞ্চিতা রায় বললেন, কোভিড আবহে মুদ্রিত পত্রপত্রিকা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়লেও তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার জোরে তারা আবার এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তার কারণ, ভারতে সংবাদপত্র কেবল তথ্য জোগায় না, তা আজ জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্রিটিশ বাজার গবেষণা সংস্থা ইউগভ-এর সহযোগিতায় এই সমীক্ষা চালায় হাভাস মিডিয়া গ্রুপ।

গত বছর ওরম্যাক্স মিডিয়ার এমনই একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, বিশ্বাসযোগ্যতার সূচকে সংবাদপত্রের সবচেয়ে বেশি, ৬২। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে জায়গা হয়েছে রেডিও ও টেলিভিশনের। বিশ্বাসযোগ্যতায় অনেক পিছিয়ে গুগল বা ফেসবুক। তবে সবার পিছনে প্রত্যাশিতভাবেই হোয়াটসঅ্যাপ। এর বিশ্বাসযোগ্যতার সূচক মাত্র ২৮।