পরবর্তী মুখ্যসচিবের দৌড়ে এগিয়ে আলাপন

সোমনাথ চক্রবর্তী, কলকাতা : রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যসচিবের দৌড়ে এগিয়ে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বর্তমানে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বর্তমান মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা অবসরগ্রহণ করবেন। সেদিনই আলাপন নতুন মুখ্যসচিবের দাযিত্ব নেবেন বলে নবান্ন সূত্রের খবর।

১৯৮৭ সালের ব্যাচের আইএএস অফিসার আলাপন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে আস্থাভাজন। নানা সমস্যায় তাঁকে গুরুদাযিত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি দায়িত্বই যথাযোগ্যভাবে পালন করেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রসচিব হওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেছেন। তার আগে রাজ্যের সবচেয়ে বড় তিনটি জেলা হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসক ছিলেন তিনি। সামলেছেন কলকাতা পুরসভার কমিশনারের দায়িত্বও। পরিবহণ, তথ্য ও সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প ইত্যাদি দপ্তরের সচিবও ছিলেন। এমনকি, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এরকম নানারকম দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নবান্নের বর্তমান আধিকারিকদের মধ্যে তাঁর মতো আর কারও নেই। তিনি এখন দায়িত্ব নিলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে মুখ্যসচিবের পদে থাকবেন।

- Advertisement -

আলাপন মুখ্যসচিব হলে স্বরাষ্ট্রসচিবের শূন্যপদে কাকে নিযুক্ত করবে রাজ্য সরকার, তা নিয়ে এখন জোর জল্পনা চলছে আইএএস মহলে। ওই আলোচনায় সুনীল গুপ্তার নাম উঠে আসছে স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে। সুনীল একসময় রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। ভোট পরিচালনা ছাড়াও অন্যান্য দপ্তরে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের তালিকায় রয়েছেন তিনি। রাজ্যের আমলা মহলের খবর, আরও একজন আইএএস নবীন প্রকাশও স্বরাষ্ট্রসচিব পদের দৌড়ে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে রাজ্যের পূর্তসচিব। যদিও রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছের ওপরে। নবান্নের এক কর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি নবান্ন সভাঘরে আমলা ও পুলিশকর্তাদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে আলাপনবাবুকে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা থেকে আমলাদের বড় অংশই মনে করছে, রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে আলাপনের নিযুক্তি প্রায় পাকা।

সামনের মাসে দুর্গাপুজো। তার পরেই ভোটের দামামা বাজবে। সেই সময় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়বে। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে বলে অধস্তন অফিসারদের সঙ্গে তাঁর ভালো সমন্বয় থাকবে। তিনিই প্রথম স্বরাষ্ট্রসচিব, যিনি আইবি অফিসে গিয়ে গোয়েন্দাদের কাজ সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। সিআইডি, রেল পুলিশের কাজ নিয়ে খোঁজখবর করেছেন। রাজ্য প্রশাসনকে হাতের তালুর মতো চেনেন, যা মুখ্যসচিবের দায়ুত্ব পেয়ে কাজ করার সুবিধা এনে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।