ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : শীতের সময় তীব্র কুয়াশার মধ্যেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবার জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। কুয়াশার মধ্যে দৃশ্যমানতা ঠিক রাখতে সব ট্রেনের ইঞ্জিনেই এবার ফগপাস ডিভাইস বা ফগ পাইলট অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম বসানো হচ্ছে। পুরো বিষয়টি জিপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এক্সপ্রেস ট্রেন, প্যাসেঞ্জার ট্রেন সহ মালবাহী ট্রেনে এই ফগপাস ডিভাইস লাগানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় দেড় কেজি ওজনের এই যন্ত্রটি ট্রেন চালানোর সময় চালকরাই ট্রেনে নিয়ে উঠবেন। আবার ট্রেন থামানোর পর তাঁরাই ওই যন্ত্র স্টেশন মাস্টারের কাছে জমা রাখবেন। এ বিষয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সুভানন চন্দ বলেন, প্রচণ্ড কুয়াশা থাকলে ট্রেনচালকরা ঠিকমতো সিগন্যাল দেখতে পারেন না। ফলে শীতের সময় অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা থাকে। তাই সমস্যা মেটাতে প্রতিটি ট্রেনেই ফগপাস ডিভাইস লাগানো হচ্ছে। এই যন্ত্র প্রচণ্ড কুয়াশাতেও রেলের লেভেল ক্রসিং, স্টেশনে ঢোকার সিগন্যাল, বিশেষ সিগন্যাল সবই আগাম দেখাবে। যন্ত্রের মাধ্যমে সঠিক সিগন্যাল দেখা গেলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনাও কমবে বলে জানিয়েছেন রেলের আধিকারিক।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গুয়াহাটি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি রেলপথে প্রতিবছরই শীতের সময় প্রচণ্ড কুয়াশা হয়। আবার এই লাইনে প্রচুর জঙ্গল থাকায় মাঝেমধ্যেই রেললাইনে হাতি সহ অন্য বন্যপ্রাণীর আনাগোনা লেগেই থাকে। আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। ডুয়ার্সের এই রেলপথে ১১টি চিহ্নিত হাতির করিডর রয়েছে। গোটা ডুয়ার্সের এই রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন এবং সাপ্তাহিক প্রায় ১২ থেকে ১৪টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলে।  ঘন জঙ্গল থাকায় শীতের সময় গোটা রেলপথ কুয়াশায় ঢাকা থাকে। তীব্র কুয়াশার জন্য মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনাও ঘটে। আবার কুয়াশার জন্য ঠিকমতো রেললাইনের সিগন্যাল দেখতে না পাওয়ায় চালকরা বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে রাখতে বাধ্য হন। তাই এই সমস্যা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে রেল দপ্তর।

এনএফ রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ট্রেনেই ফগপাস ডিভাইস লাগানো হচ্ছে। এই যন্ত্র আগাম বিভিন্ন ধরনের সিগন্যাল বলে দিতে পারবে। তাই কোনো ট্রেনের চালক যদি কুয়াশার জন্য সিগন্যাল ঠিকমতো বুঝতে না পারেন তবে সিগন্যাল সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেবে এই যন্ত্র। ডিভাইসটি থেকে স্পিকারের মাধ্যমে সামনের সিগন্যাল সম্পর্কে টানা ঘোষণাও করা হবে। এতে চালক সিগন্যাল সম্পর্কে জেনে ট্রেন সঠিকভাবে চালাতে পারবেন বলে রেল দপ্তর জানিয়েছে। এনএফ রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের সিনিয়ার ডিসিআরএম অমরমোহন ঠাকুর বলেন, ট্রেন চলা শুরু করলেই ফগপাস ডিভাইসটিতে এলাকার ভৌগোলিক বিশ্লেষণ, পরবর্তী দুটি ল্যান্ডমার্কের মধ্যে অবশিষ্ট দূরত্ব যন্ত্রের স্ক্রিনে ফুটে উঠবে। তাই চালক সিগন্যাল বুঝতে না পারলেও স্টেশন থেকে ট্রেন কত দূরত্বে রয়েছে তা ওই যন্ত্রের মাধ্যমেই বুঝতে পারবেন।

এদিকে এনএফ রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ইঞ্জিনের নিরাপত্তা নয়, যত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ২৫৬টি রেল কোচে জিপিএস ডিভাইস বসানো হয়ে গিয়েছে। রেল কোচ কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে, সে সম্পর্কেও যাবতীয় তথ্য দেবে এই জিপিএস মেশিন। এই মেশিনে কোচ সম্পর্কে প্রায় ১৩৫ ধরনের তথ্য মিলবে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।