জঙ্গিদের অর্থের উৎস খুঁজতে এনআইএ-র দিনভর তল্লাশি

217

শ্রীনগর: জঙ্গিদের অর্থের জোগান দিচ্ছে কারা? তাদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির অর্থের জোগান বন্ধ করতে অভিযানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। বুধবার জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকরা জুড়ে অভিযান চলে। একই সঙ্গে কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতেও অভিযান চালায় এনআইএ।

এনআইএ সূত্রে খবর, এদিন কাশ্মীর ও বেঙ্গালুরু মিলিয়ে মোট দশ জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। এর মধ্যে সংবাদপত্র ‘গ্রেটার কাশ্মীর’-এর মালিকানা সংস্থার দপ্তরের পাশাপাশি কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং ট্রাস্টের কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির পরিচালকদের বাড়ি রয়েছে। অভিযানের সময় স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নেওয়া হয়। ‘জম্মু-কাশ্মীর কোয়ালিশন ফর সিভিল সোসাইটি’-র দপ্তর তথা কাশ্মীরের মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা পারভেজ খুররমের বাড়িতে হানা দেয়। তাঁর সহযোগী পারভেজ আহমেদ বুখারি, আহমেদ মট্টা এবং তাঁদের বন্ধু স্বাতী শেষাদ্রির বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছে। কাশ্মীরের নিখোঁজদের পরিবারের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ পেরেন্টস অফ ডিসঅ্যাপিয়ার্ড পার্সনস’-এর প্রধান পরভিনা অহঙ্গেরের বাড়ি এবং ‘অ্যাথ্রাউট’-এর মতো সামাজিক উন্নয়নের কাজে জড়িত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ‘জিকে ট্রাস্ট’-এর দপ্তরেও এনআইএ আধিকারিকরা তল্লাশি চালায়।

- Advertisement -

এনআইএ অভিযানের নিন্দা করে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি সভানেত্রী মেহবুবা মুফতি টুইটারে লেখেন, ‘মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা খুররম পারভেজ এবং গ্রেটার কাশ্মীরের দপ্তরে এনআইএ-র অভিযান আসলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করার উদ্দেশ্যে ভারত সরকারের দমনপীড়ন। প্রতিবাদীদের ভয় দেখাতে বিজেপির পোষ্য হিসেবে কাজ করছে এনআইএ’।

গোয়েন্দাদের দাবি, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কাছে বিদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন থেকে হাওয়ালা মারফৎ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। ব্যবসার নামে অথবা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা সমাজসেবার নামে টাকার বড় অংশ ঘুরপথে জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে পৌঁছাচ্ছে। অভিযান শেষে এদিন বিকেলে এনআইএ জানিয়েছে, তল্লাশি অভিযানে বেশ কিছু ‘অপরাধমূলক নথি’ এবং বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ১২৪-এ (রাষ্ট্রদ্রোহ) এবং ইউএপিএ-র বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।