ওয়েবডেস্ক উত্তরবঙ্গ সংবাদ, শিলিগুড়ি, ১৬ জুলাই : রাত বাড়তেই শহরে বাড়ছে উচ্ছৃঙ্খল যুবক- যুবতিদের অশালীন কার্যকলাপ। কখনও রাস্তার উপরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চলছে হুজ্জুতি, আবার কখনও গোপনে মদ কিনতে গিয়ে বচসা। রাতের শহরে ঘুরে বেড়ালেই নজরে আসবে এমন ছবি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শহরের বিভিন্ন মদের দোকান বন্ধ হয়ে গেলেও খোলা থাকছে গোপন কাউন্টার। আর সেখান থেকেই মধ্যরাত পর্যন্ত চড়া দামে মিলছে দামি ব্র‌্যান্ডের মদ। সেখান থেকে মদ কিনে মদ্যপানের পরেই চলে হুজ্জুতি। সম্প্রতি শহরের দুই প্রান্তে এই ধরনের দুটি ঘটনাও ঘটেছে।

সরকারি নিয়ম মতো বিভিন্ন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানগুলি বন্ধ হয়ে গেলেও তাদের স্পেশাল কাউন্টার থেকে মেলে মদ। তবে এক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের থেকে দ্বিগুণ দাম দিয়ে মদ কিনতে হয়। মদের দোকান রাতে বন্ধ হওয়ার পর সংলগ্ন পানের দোকান কিংবা লটারির দোকানে মিলছে মদ। রাত বারোটার পর থেকে খোলা থাকে ওই স্পেশাল কাউন্টারগুলি। শহরের প্রতিটি এলাকাতেই এভাবে মদ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। আর এই মদ কিনতে এসে মাঝে মাঝে বচসাতেও জড়িয়ে পড়ছে যুবক-যুবতিরা। সেই বচসা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ানোর নিদর্শনও রয়েছে। শহরের পাঞ্জাবিপাড়া, হিলকার্ট রোড, নৌকাঘাট সহ আরও বেশ কিছু জায়াগায় রাতে অবৈধভাবে মদ মিলছে। গত সপ্তাহেই রাত বারোটার পর পাঞ্জাবিপাড়া এলাকায় মদ কিনতে গিয়ে বচসায় জড়িয়ে পড়ে কয়েকজন যুবক। খবর পেয়ে পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। মাসখানেক আগে শিলিগুড়ির নৌকাঘাট এলাকাতেও একটি মদের দোকানের সামনে ঝামেলা হয়।

সেবক রোডের একটি শপিংমলের পাশের গলিতে পাঞ্জাবিপাড়ায় রয়েছে একটি মদের দোকান। সেই দোকানের পাশেই রয়েছে দুটি ছোটো দোকান। রাত বারোটার পর ওই দোকানগুলিতে শুরু হয় মদ বিক্রি। গত শনিবার ওই দোকানে মদের দ্বিগুণ দাম নেওয়া নিয়ে বচসা বাধে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পুলিশ চলে যাওয়ার পর রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ওই দোকানের সামনে আসে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি। তার মধ্যে একটি গাড়িতে ছিল চারজন যুবতি ও চালকের আসনে একজন যুবক। বাকি গাড়িগুলিতে চালকের আসনে ছিল একজন করে যুবক। রাস্তা একপ্রকার বন্ধ করেই দাঁড় করানো হয়েছিল গাড়িগুলি। গাড়ি থেকে প্রথমে একজন যুবতি ও যুবক নেমে ওই ছোটো দোকানে যায়। সেখান থেকে মদ কিনে ফিরে আসে। রাস্তার উপরেই শুরু হয়ে যায় বেলেল্লাপনা। এরপর বাকি যুবতিরা গাড়ি থেকে নেমে একে একে তিনটে গাড়িতে উঠে যায়। গাড়িগুলি সেখান থেকে বেরিয়ে সেবক মোড়ের দিক থেকে বিভিন্ন দিকে চলে যায়। একটি গাড়ি হিলকার্ট রোডের দিকে, একটি বিধান রোডের দিকে, একটি আশ্রমপাড়ার দিকে, অপরটি পানিট্যাঙ্কি মোড় থেকে ঘুরে সেবক রোড ধরে চেকপোস্টের দিকে যায়।

রাতের শিলিগুড়িতে এভাবে মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। গতমাসের শেষের দিকে শিলিগুড়ির মহাবীরস্থান উড়ালপুলে একটি ছোটো বিলাসবহুল গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সোজা ধাক্কা মারে উড়ালপুলের ধারে। সেইসময়ও চালক এবং সহযাত্রী মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। শহরের এক ডিএসপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্তা বলেন, রাতে আমাদের টহলদারি ভ্যান সব নজর রাখে। শনিবারের ঘটনার পর আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। রাতে এই ধরনের বেলেল্লাপনা বরদাস্ত করা হবে না।

আরও পড়ুন আপনি কেমন? বলে দেবে পছন্দের রং