স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিনহাটায় সওয়া উনিশ হাত কালী প্রতিমার পুজো হবে

429

দিনহাটা: প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও নিয়ম নিষ্ঠা মেনে “নাম নেই সঙ্ঘের” সওয়া উনিশ হাত কালী পুজো প্রতিমার পুজা অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সংহতি ময়দানে। এবছর তাদের পুজা ৪৬ তম বর্ষে পড়তে চলেছে। দিনহাটাবাসীর কাছে বড়ো কালী নামেই পরিচিত এবং এই সুবিশাল কালী প্রতিমা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোক ভিড় জমায়। এছাড়াও পুজোকে কেন্দ্র করে পনেরো দিন ধরে পুজা প্যান্ডেলের পাশেই বসে বিরাট মেলা। কিন্তু এবছর করোনা আবহে পুজো হলেও মেলা হবে না বলে উদ্যোক্তরা জানিয়েছেন।

একসময় এই পুজোর দায়িত্ব ছিলেন কমল গুহ। তাঁর অবর্তমানে ছেলে উদয়ন গুহ ও অন্যান্যরা এই পুজোর দায়িত্বে আছেন। একসময় প্রতিমার উচ্চতা সাড়ে এগারো হাত ছিল। পরে তা বাড়িয়ে সওয়া উনিশ হাত করা হয়। এবং সেই থেকে সওয়া উনিশ হাত কাঠামোয় গড়া মাতৃমূর্তিই পুজিত হয়ে আসছে। পুজো উদ্যোক্তাদের কথায় এই প্রতিমা তৈরিতে ২৭ মন পাটকাঠি, আড়াই হাজার খড়ের আটি, ৭০ কেজি দড়ি, এক ট্রাক মাটি, প্রতিমার চুল তৈরিতে ৮০ কেজির মতো পাট প্রয়োজন হয়। এবং স্থানীয় মৃৎ শিল্পীরা দুর্গা পুজোর পর থেকেই প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু করে দেন। দশ বারোদিনের মধ্যে শিল্পীর ছোয়ায় প্রতিমা পূর্ণতা পায়।

- Advertisement -

পুজো কমিটির কর্মকর্তা নীলমনি সাহা জানান, তাদের সওয়া উনিশ হাত মাতৃমূর্তি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। সকলেই একবার হলেও বড়ো কালীর দর্শন করবেনই। তবে, এবছর পরিস্থিতি একটু আলাদা। তাই প্রশাসনিক নিয়ম নীতি মেনে পুজোর আয়োজন করা হবে। তবে পুজোকে কেন্দ্র করে সংহতি ময়দানে ১৫ দিন ব্যাপী যে মেলা বসে তা এবছর আর হচ্ছে না। পাশাপাশি সংক্রমণের কথা চিন্তা করে প্রসাদ বিতরণও বন্ধ রাখা হবে বলে তিনি জানান।

উদয়ন গুহ জানান, প্রশাসনিক নিয়ম নীতি মেনেই এবছর পুজোর আয়োজন হবে। এবং পুজোর কয়েকটা দিন তিনি মন্ডপেই কাটাবেন।