কোচবিহারে রাজনৈতিক শান্তি ফেরাতে বিরোধীদের আহ্বান নিশীথের

0
442
- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রবিবার উত্তরবঙ্গ সংবাদের ‘মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। দর্শকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর মতামত এদিন ভাগ করে নিয়েছেন নিশীথবাবু।

তৃণমূলে থাকাকালীন তিনি দলকে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু বিজেপি তাঁকে ঠিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে না। তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হচ্ছে কেন? এসব প্রশ্নের উত্তরে সাংসদ বলেন, ‘কোনও ক্লাবের হয়ে ক্রিকেটে ওপেন করার চেয়ে ন্যাশনাল টিমের রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকা অনেক বেশি সম্মানজনক। বিজেপিতে একজন সর্বোচ্চ পদাধিকারী যা সম্মান পান, গ্রাসরুট লেভেলে কাজ করা একজন সাধারণ কর্মীও সেই একই সম্মান পান। বিজেপিতে অনেক বিচক্ষণ নেতা রয়েছেন। তাঁরা জানেন কখন কাকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে।‘

লোকসভা নির্বাচনের আগে নারায়ণী রেজিমেন্ট গঠনের বিষয়ে জেলার মানুষকে আশ্বাস দিয়েছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। কিন্তু নির্বাচনের পর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এবিষয়ে এখনও কোনও উদ্যোগ নেই। এক দর্শকের প্রশ্নের উত্তরে সাংসদ বলেন, ‘আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নারায়ণী রেজিমেন্ট গঠিত হবেই।’ পাশাপাশি তিনি এদিন দাবি করেছেন নারায়ণী রেজিমেন্ট তৈরির বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রাজ্যের তরফে সেই চিঠির উত্তর দেওয়া হয়নি। এছাড়া কামতাপুরি-রাজবংশী ভাষার বিষয়েও রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে অপহরণ, ডাকাতি সহ ১০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলাদেশে পাচারের সঙ্গেও জড়িত কোচবিহারের সাংসদ। এবিষয়ে নিশীথবাবু বলেন, ‘তৃণমূল নেতারা যদি সমস্ত তথ্য দিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। তৃণমূল প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে বিজেপি নেতাকর্মী, সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে। বিজেপির বিধায়ককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করা হচ্ছে।‘

রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অসহযোগিতার কারণে কোচবিহারে বিমান পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাংসদ। পাশাপাশি এদিন তিনি উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও মুখ খুলেছেন। উত্তরবঙ্গে এইমস স্থাপনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই এইমস নিয়ে যায় দক্ষিণবঙ্গে। এজন্য রাজ্যের বিমাতৃসুলভ আচরণকেই দায়ী করেছেন সাংসদ। তিনি জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের জন্য একটি এইমসের অনুমোদনের দাবি ফের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাখা হয়েছে।

গোর্খাল্যান্ড, কামতাপুর, গ্রেটার কোচবিহারের মতো ইস্যুগুলির সমাধান এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে করা যেতে পারে বলে মনে করেন নিশীথবাবু। কোচবিহারে রাজনৈতিক হিংসা, কোন্দল রুখতে ও শান্তি ফেরাতে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এক দর্শকের প্রশ্নের উত্তরে এদিন সাংসদ জানান, পুজোর পর চ্যাংরাবান্ধায় পদাতিক এক্সপ্রেসের স্টপেজ চালু হতে পারে।

- Advertisement -