প্রতীকী চিত্র

কল্লোল মজুমদার, মালদা : মালদায় থমকে থাকা ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাসের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। এমনটাই দাবি করেছেন উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। খগেনবাবু জানিয়েছেন, বুধবার রাতে তিনি নীতিন গড়করির সঙ্গে দেখা করে থমকে থাকা বাইপাসের কাজ নিয়ে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সাংসদের মুখ থেকে সমস্ত কথা শুনে গড়করি সঙ্গে সঙ্গে এনএইচএ-১ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। তখনই দ্রুত সেই কাজ শেষ করার নির্দেশও দেন তিনি। খগেনবাবু জানান, নীতিন গড়করি তাঁকে জানিয়েছেন, ওই কাজ শেষ করার জন্য প্রযোজনীয় অর্থ মঞ্জুর করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক দপ্তর। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাইপাস নির্মাণ নিয়ে একটি মামলা দায়ে করা হয়েছে। সেই মামলা না মিটলে কবে বাইপাস নির্মাণের কাজ শেষ হবে তা কিন্তু বলা যাবে না।

২০১২-১৩ সালে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। কার্যত দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয় এই কাজটিকে। একটি পর্যায়ে রাখা হয় বারাসত থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ। অপর পর্যায়ে রাখা হয় মালদা থেকে ডালখোলা পর্যন্ত রাস্তা তৈরির কাজ। সেই সময় মালদা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বাইপাস তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। তখন সিদ্ধান্ত নেওযা হয়েছিল, পুরাতন মালদার নারায়ণপুরের কাছ থেকে বাইপাসটি শুরু হয়ে শেষ হয় ইংরেজবাজারের যদুপুরের কাছে। এই কাজের জন্য বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙাও পড়ে। বেশ কিছু পরিবারকে ক্ষতিপূরণও দিতে হয়। বাইপাসের মধ্যে পড়ে যায় মহানন্দা নদীও। নদীর ওপর গড়ে তোলা হয় একটি সেতু। সেই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে গেলেও অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ এখনও শেষ হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়ে বারবার সাংসদ, বিধায়ক সহ বণিকমহল সরব হয়েছেন। কিন্ত কাজ শুরু হওয়ার পর প্রায় সাত বছর অতিক্রম হলেও বাইপাস তৈরি সম্পূর্ণ হয়নি। শুধু তাই নয়, মালদা জেলার বিভিন্ন অংশে এখনও ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের কাজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কাজ শেষ না হলেও চড়া মূল্যে টোলট্যাক্স চালু করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বণিকমহলে। চলতি বর্ষায় ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কে বড়ো বড়ো গর্ত তৈরি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই নিয়ে উত্তরবঙ্গ সংবাদে খবরও প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, বেহাল জাতীয় সড়ক মেরামতি এবং থমকে থাকা বাইপাসের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য গত জুন মাসে নীতিন গড়করির কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরি। কিন্তু সেই আবেদনের পরেও বাইপাসের কাজ শুরু হয়নি। এরপরেই গতকাল রাতে নীতিন গড়করির সঙ্গে দেখা করে একই দাবি করেন খগেন মুর্মুও। যদিও বাইপাসের কাজ থমকে থাকার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এনএইচএ-১-এর এক কর্তা বলেন, গত আট মাস ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলাও করা হয়েছে। সেই মামলা শেষ না হওযা পর্যন্ত বলা যাবে না কবে শেষ হবে বাইপাস তৈরির কাজ। তবে নীতিন গড়করির কোনো নির্দেশ এখনও পর্যন্ত মালদায় এসে পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক যেভাবে নির্দেশ দেবে, সেইমতো কাজ করা হবে।