চতুর্থবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নীতীশ কুমারের

341

পাটনা: সোমবার বিকালে ফের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন এনডিএ জোটের নীতীশ কুমার। একটানা চারবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসছেন জেডিইউ-র নীতিশ কুমার। এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে আরজেডি।

- Advertisement -

নীতীশ ছাড়াও জোড়া উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা তারকিশোর প্রসাদ ও উপনেতা রেণুদেবী। জেডিইউ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরি, বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব , মেওয়া লাল চৌধুরি ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন। হিন্দুস্তানি হাম মোর্চা(হাম) প্রধান জিতেনরাম মাঞ্ঝি এবং ভিআইপি-র মুকেশ সাহনিও ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। অন্যদিকে,বিজেপি-র মঙ্গল পাণ্ডে ও অমরেন্দ্র প্রতাপ সিং ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারের সপ্তম মুখ্যমন্ত্রী হলেও এবার নীতিশ কুমারের চলার পথ আরও বেশি কঠিন হতে চলেছে। কারণ, নীতীশের আস্থাভাজন প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদি এবার ‘নীতীশের ডেপুটি’ হতে পারলেন না। তাঁর জায়গায় বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা তারকিশোর প্রসাদ ও উপনেতা রেণুদেবী।

রাজনৈতিক মহলের দাবি, ইঙ্গিতটা আগেই মিলেছিল যে, নীতীশকে চাপে রাখতে প্রথম থেকেই কৌশলী গেরুয়া-শিবির। শপথ অনুষ্ঠানে সেই কৌশলে সিলমোহর পড়ল। উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা তারকিশোর প্রসাদ ও উপনেতা রেণুদেবী।

এরআগে বিহারের এনডিএ সরকারে নীতীশের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিজেপি নেতা সুশীল মোদি।তাঁর সঙ্গে নীতীশের বরাবরের সখ্যতা। মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবে বরাবরই সায় ছিল উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদির। বিহারের এনডিএ সরকারে কখনও কোনও মতানৈক্য তৈরি হলেই আলাপচারিতার মাধ্যমে তার সমাধান করেছেন নীতিশ-মোদি জুটি।কিন্তু, তাঁর বদলে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তারকিশোর প্রসাদ ও উপনেতা রেণুদেবীর সঙ্গে নীতিশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না বলে আগেই দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার। এই কংগ্রেস নেতার দাবি, নীতিশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হলেও এবার তাঁকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ‘রিমোট’ অন্য কারও হাতে থাকবে। তারিক আনোয়ারের আশঙ্কা যে একেবারে অপ্রাসঙ্গিক নয়, তা সুশীল মোদির কুর্সি হারানোর জল্পনায় সত্যি।

এছাড়াও, বৈশ্য সম্প্রদায়ের তারকিশোর এবং নোনিয়া সম্প্রদায়ের রেণুকে উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় দুই সম্প্রদায়ের কাছে ইতিবাচক ‘বার্তা’ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে গেরুয়া শিবিরের, দাবি রাজনৈতিক মহলের।