জেডিইউ সভাপতি পদে ইস্তফা নীতিশের

403

পাটনা: বিজেপির সঙ্গে মতবিরোধ বিহারে বিধানসভা ভোটের আগাগোড়াই ছিল নীতিশ কুমারের। কিন্তু কখনও তা প্রকাশ্যে আসতে দেননি। এলজেপি-র ভোট কাটার অঙ্কে বড় শরিক থেকে এক ধাক্কায় ছোট শরিকে পরিণত হওয়ার পর এবং বিজেপির দয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি পাওয়ার পরও মতানৈক্য প্রকাশ করেননি। কিন্তু অরুণাচল প্রদেশে জেডিইউয়ের ৬ জন বিধায়ক রাতারাতি বিজেপিতে নাম লেখানোর পর গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ সামান্য হলেও প্রকাশ করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। জেডিইউয়ের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

তাঁর জায়গায় দলের সভাপতি হয়েছেন জেডিইউয়ের রাজ্যসভা সাংসদ রামচন্দ্রপ্রসাদ সিং। তিনি অবশ্য আরসিপি সিং বলেই পরিচিত। রবিবার পাটনায় নীতিশ কুমারের সভাপতিত্বে জেডিইউয়ের জাতীয় কার্যসমিতির বৈঠক বসেছিল। সেখানে বিধানসভা ভোটে দলের পারফরমেন্সের পাশাপাশি অরুণাচলের ঘটনা নিয়ে জরুরি আলোচনা হয়। অরুণাচলে দলে ভাঙন ধরা সত্ত্বেও তাঁরা যে অন্যান্য রাজ্যে লড়াইয়ের  রাস্তা থেকে সরছেন না সেকথা এদিন স্পষ্ট করে দেন নীতিশ। তিনি বলেন, ‘আমরা কোন রাজ্যে ভোটে লড়ব সেটা দল ঠিক করবে। রাজ্যসভায় আমাদের একজন ডেপুটি চেয়ারপার্সন রয়েছেন। দেশকে মজবুত করার কাজ করব।’

- Advertisement -

অরুণাচল নিয়ে নীতিশ কোনও মন্তব্য না করলেও জেডিইউয়ের নতুন সভাপতি আরসিপি সিং এবং দলের প্রবীণ নেতা কেসি ত্যাগী এদিন বিজেপির নাম না করে সুর চড়িয়েছেন। আরসিপি সিং বলেন, ‘আমাদের নেতা ২০০৫ সাল থেকে জোট সরকার চালাচ্ছেন। ২০১০ সালে নীতিশ কুমারের কারণে জেডিইউয়ের থেকে বিজেপির স্ট্রাইকরেট বেশি ছিল। আমাদের সঙ্গে যাঁরা জোট করেন, আমরা তাঁদের প্রতি সবসময় অনুগত থেকেছি। কারও সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা, কারও বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমরা হতোদ্যম হইনি। আমরা দলের সঙ্গেই রয়েছি।’ নীতিশের প্রতি তাঁর অটুট আস্থার কথা জানিয়ে আরসিপি সিং বলেন, ‘আমি গত ২৩ বছর ধরে ওঁর সঙ্গে রয়েছি। উনি আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন আপনাদের সমর্থনে আমি তা পূরণ করতে পারব বলে মনে করি।’