নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, কুমারগ্রাম : কুমারগ্রাম ব্লকের কোথাও আধার কার্ডে নাম নথিভুক্তকরণ কেন্দ্র নেই। স্থানীয় বিডিও অফিস চত্বরের একমাত্র আধার কার্ড নথিভুক্তকরণ কেন্দ্রটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে, ব্যাংক এবং পোস্ট অফিস থেকে ওই সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও কুমারগ্রাম ব্লকের কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কিংবা পোস্ট অফিসে এখনও পর্যন্ত তা চালু হয়নি। ফলে কুমারগ্রাম ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কযে হাজার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। এছাড়া এলাকার প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসাযী, বিধবা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, পেশনভোগী এমনকি চা বাগানের শ্রমিকরাও নতুন আধার কার্ড তৈরি, আপডেট এবং নামের সংশোধন কিছুই করাতে পারছেন না। স্বাভাবিক কারণে তাঁরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলতে পারছেন না। ফলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা থেকে শুরু করে আবাস যোজনা, বার্ধক্যভাতা এমনকি ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের টাকা আটকে রয়েছে।  এছাড়া,  রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগসুবিধা থেকেও বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যার কথা জানা সত্ত্বেও জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কর্তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আধার কার্ড বাধ্যতামূলক না হলেও কেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যাচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তাঁদের। কুমারগ্রামের বিডিও মিহির কর্মকার জানান, বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের এক্তিয়ারে নেই। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হযেে।

কুমারগ্রাম থানাপাড়ার গৃহবধূ শিল্পী কর্মকার দে দাস বলেন, ‘আধার কার্ড না হওয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছি না। ফলে ইচ্ছে থাকলেও স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারছি না।’ পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসাযী টিম্পল দে দাস বলেন, স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। কিন্তু আধার কার্ড না থাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে পারিনি। ফলে সরকারি পাঁচ হাজার টাকার অনুদান আদৌও মিলবে কিনা তা নিযে দুশ্চিন্তায় আছি।’ নিউ অমরপুর গ্রামের নারায়ণ ওরাওঁ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘরের তালিকায় নাম রয়েছে। কিন্তু আধার কার্ড না থাকায় ওই সুবিধা নিতে পারছি না।’ স্থানীয় বাসিন্দা জিতিয়া ওরাওঁ বলেন, ‘১০০ দিনের কাজের জন্য বারবার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করলেও আধার কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকায় জব কার্ড মেলেনি।’

এ ব্যাপারে আলিপুরদুয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংকের লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার প্রকাশ বড়ুয়া বলেন, ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটির তরফে কুমারগ্রাম ব্লকের কোনো ব্যাংকের শাখায় এখনও পর্যন্ত আধার কার্ড এনরোলমেন্ট সেন্টার খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলেই জানি। এখন আধার সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের আলিপুরদুয়ার জেলা সদরে এসে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করতে হবে।’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে কেন আধার কার্ড চাওয়া হচ্ছে সেই প্রসঙ্গে প্রকাশ বড়ুয়া বলেন, ‘সুপ্রিমকোর্টের রায় অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। এজন্য ব্যাংকের সফটওয্যারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওই প্রক্রিয়া এখনও জারি রয়েছে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার জন্য নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে আধার কার্ড চাওয়া হয়। কারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্ত করা না থাকলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে ভর্তুকির টাকা ঢুকবে না। অন্যদিকে ব্লক ইনফরমেটিভ অফিসার বিকাশ মাহাতো বলেন, সরকারি কাজে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। তবু ব্যাংকগুলি নিজেদের কাজের সুবিধার জন্য একে বাধ্যতামূলক বলে প্রচার চালাচ্ছে।