সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : বালুরঘাট হাসপাতাল গড়েই ওঠেনি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। অর্ধ শতবর্ষ প্রাচীন এই হাসপাতালে রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকা সত্ত্বেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। বছর কয়েক আগে এই হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে ৮৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই টাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কাজ শুরুও হয়। কিন্তু সেই কাজ আজও শেষ হয়নি বলে জানা গিয়েছে। জেলা হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি রোগীকল্যাণ সমিতির সভায় দ্রুত কাজ শেষ করে ওই ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনদিক সীমান্ত ঘেরা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষের চিকিৎসা পরিসেবার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভরসা বালুরঘাট সদর হাসপাতাল। নার্সিংহোমবিহীন এই জেলার মানুষ এই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেই চিকিৎসা পরিসেবা নিতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তিনতলা ভবন বিশিষ্ট এই জেলা সদর হাসপাতালের উপর থেকে অবশ্য গত ৫ বছরে চাপ খানিকটা কমেছে, বছর পাঁচেক আগে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হওয়ায়। সেই ভবনে বেশ কিছু বিভাগও চলে গিয়েছে। কিন্তু এখনও এই তিনতলা জেলা সদর হাসপাতালে মেডিসিন, সিসিইউ, ইমারজেন্সি, ব্লাড ব্যাংক সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলি রয়ে গিয়েছে। প্রতিদিনই হাজারের বেশি রোগী যেমন এই ভবনে ভরতি থাকেন, ঠিক তেমনি হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন চিকিৎসা পরিসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বা অন্য কাজের জন্যে। এমন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে কিন্তু কোনো অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামোই গড়ে ওঠেনি।

- Advertisement -

কলকাতায় আমরি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের জেরে নড়েচড়ে বসেছিল রাজ্য সরকার। বালুরঘাট হাসপাতালেও দীর্ঘ বছর পর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল। রাজ্য স্বাস্থ্যভবনের ৮৬ লক্ষ টাকার বরাদ্দে বছর পাঁচেক আগে এই হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কাজ শুরু হয়েছিল। হাসপাতালের ছাদে জলাধার নির্মাণ, পাম্প হাউজ নির্মাণ সহ বিভিন্ন তলাতে পাইপলাইন বসানোর কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই কাজ শেষই হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। এমনকি দমকল বিভাগের তরফ যে মক ড্রিল করার কথা থাকে, সেগুলোও হয় না বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই জেলা সদর হাসপাতাল কার্যত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। যদি কোনোভাবে এই হাসপাতালে আগুন লাগে, তবে তা সামাল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বললেই চলে। সেক্ষেত্রে বড়ো কোনো ক্ষয়ক্ষতিও হতে পারে বলে অনুমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

সম্প্রতি রোগীকল্যাণ সমিতির জেলাস্তরীয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনাও হয় বলে জানা গিয়েছে। সভায় রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অর্পিতা ঘোষ, জেলাশাসক, দমকল বিভাগ, পূর্ত বিভাগ ও জেলা স্বাস্থ্যকর্তারা সহ বিভিন্ন আধিকারিকরা ছিলেন। ওই সভা থেকেই জেলা হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা  দ্রুত চালুর জন্য উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে বলেন, জেলা সদর হাসপাতালে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের বরাদ্দ করা ৮৬ লক্ষ টাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কাজ করেছে পূর্ত দপ্তর। ওই কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিদ্যুদায়নের জন্য আরও ৮ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। রাজ্য সরকারের কাছে ওই টাকার অনুমোদন চেয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। ওই টাকা মিললেই কাজ সম্পন্ন করে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা চালু করে দেওয়া হবে।