নজর নেই গারুচিরার পর্যটনে, মুখ ফিরিয়েছেন পর্যটকরা

99

সুনীল রায়, বীরপাড়া : রাজ্য সরকার পর্যটনের প্রসারে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। অথচ একরকম সরকারি উদাসীনতায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে ডুয়ার্সের ভুটান পাহাড়ের পাদদেশে থাকা গারুচিরা ইকো ভিলেজ টুরিজম। পরিকাঠামো ভেঙে পড়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে কটেজগুলি। যদিও দলগাঁও বন দপ্তরের রেঞ্জার দোরজি শেরপা বলেন, গারুচিরা ভিলেজ টুরিজম কেন্দ্রের জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্ল্যান এস্টিমেট করে পর্যটন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেটা মঞ্জুর হলে গারুচিরা ভিলেজ টুরিজম কেন্দ্রকে সাজিয়ে তোলা হবে।

ভুটানের পাহাড়ঘেঁষা বান্দাপানি গ্রাম পঞ্চায়েতের গারুচিরার বনবস্তিতে ২০০৮ সালে তৎকালীন বনমন্ত্রী যোগেশ বর্মনের প্রচেষ্টায় গারুচিরা ভিলেজ টুরিজম কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছিল। ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভালোভাবেই চলছিল। পর্যটকরা এখান থেকে ঝটিকা সফরে বিদেশ ভ্রমণ করতেন, যেমন ভুটানের গোমটু শহরের সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, পাহাড়ের চূড়ায় বৌদ্ধ গুম্ফা হয়ে মাকড়াপাড়ার বিখ্যাত কালীমন্দির ঘুরে আসতেন। কিন্তু ২০১৩ সালে কালবৈশাখী ঝড়ে কটেজগুলি ভেঙে পড়ে। ফলে বন দপ্তর নজর না দেওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কটেজগুলি ভেঙে পড়ার উপক্রম। মাঠে চড়ছে গোরু-বাছুর, পরিচর্যার অভাবে জৌলুস যেমন হারিয়েছে তেমনই পর্যটকরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এই গারুচিরা ইকো ভিলেজ টুরিজম থেকে।

- Advertisement -

গ্রাম বিকাশ সংঘ স্বনির্ভর গ্রুপ এবং জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির পরিচালনায় গারুচিরা ইকো ভিলেজ টুরিজম নিয়ে এলাকার যুবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ছিল। কিন্তু সরকারি উদাসীনতায় পর্যটকরা না আসায় গারুচিরা ইকো ভিলেজ টুরিজম সম্পূর্ণ অবহেলায় পড়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন গ্রাম বিকাশ সংঘের সদস্য বিকাশ কাগাতি, রবিলাল কাগাতিরা।

তাঁরা জানিয়েছেন, এখানে তিনটি কটেজ রয়েছে। একসময় এখানে রঙিন মাছের জলাশয় অন্যতম আকর্ষণ ছিল।কটেজগুলির ডাইনিং হলের দরজা-জানলা সব ভেঙে পড়েছে। রান্নাঘরের দরজা এবং জানলা ভাঙা। রান্নাঘরের ওপরের চাল নেই। পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। ভুটান পাহাড় থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে খাবার জল আনতে হয়। বর্ষায় পাইপ প্রায়শই ভেঙে যায়। শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলস্তর কমে যাওয়ায় জল ঠিকমতো আসে না। সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলেও তা নগণ্য।

বিকাশ কাগাতি বলেন, এখান থেকে ভুটান পাহাড়ের নৈসর্গিক শোভা অতুলনীয়। ভুটান পাহাড়ে ট্রেকিং পর্যটকের বাড়তি পাওনা। যদিও বর্তমানে করোনাকালে ভুটানে প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। এখানে বসে বন্য হাতির পাল যেমন দেখা যায়, তেমনই মাঝেমধ্যে চিতাবাঘ দেখতে পাওয়া যায়। মযূরের পেখম তোলা নাচ হামেশাই দেখা যায়। এছাড়াও ভোর রাতে মযূর ও ঝিঁঝিপোকার ডাকে পর্যটকদের ঘুম ভেঙে যেত। বর্তমানে চারদিক আগাছায় ভরে গিয়েছে। তবুও আমরা আশায় রয়েছি নতুন সরকারের উদ্যোগে গারুচিরা ইকো ভিলেজ টুরিজম একদিন স্বমহিমায় ঘুরে দাঁড়াবে।